মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করতে হবে: খালেদাকে সৈয়দ আশরাফ

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন,‘নির্বাচন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইউনিফর্ম পরে সাঁজোয়া গাড়িতে করে কেউ আপনাকে সিংহাসনে বসিয়ে দেবে না। আপনাকে মাঠে যেতে হবে। মানুষের কাছে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করতে হবে। আর জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে তারাই দেশ শাসন করবে।’
গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে  দলের ঢাকা মহানগর ‍উত্তর শাখা আয়োজিত এক সমাবেশে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্র থাকবে।গণতন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ও জামাত শিবিরের নাশকতার জবাব দেওয়া হবে।’
খালেদা জিয়া তার ছেলেকে বিদেশে নিরাপদে রেখে অন্যের ছেলেদের আন্দোলনে নামাতে উৎসাহিত করছেন, এমন অভিযোগ তুলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার ছেলে বিদেশে মার্সিডিজ বেঞ্জে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর আপনি এখানে অন্যের ছেলের হাতে ফেন্সিডিল,গুলি আর বোমা তুলে দিয়ে মাঠে নামতে বলছেন। এসব ভুলে যান। আপনার কথায় বাংলার মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না।’

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ‘আপনি ফিনফিনা কাপড় পরে ভালো সাজুগুজু করতে পারেন। কিন্তু দেশ সাজাতে আপনি পারেন না। কখনও এটা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের মানুষও আপনাকে সেই সুযোগ দেবে না।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও দলীয় প্রতীক নিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে আপনার জনপ্রিয়তার প্রমাণ হয়ে গেছে। ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনেও আপনার জনপ্রিয়তার প্রমাণ হবে। ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকা বিপুল জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাবে।শেখ হাসিনার নৌকা এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ এটাকে রুখতে পারবে না।’

খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন বর্জন ও মানুষ হত্যা করে কী পেলেন এবং ভবিষ্যতে কী পাবেন, সেটা আপনাকে ভাবতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচন বর্জন অত্যন্ত বেদনার। গণতন্ত্র ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলতে পারে না। যারা কথায় কথায় নির্বাচন বর্জন করে তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চায় না। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে নির্বাচন বর্জনের ইতিহাস নেই। আইয়ুব খানের মার্শাল ল, ইয়াহিয়ার সেনা শাসনের আমলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।’

দেশে চলমান গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘দীর্ঘ সংগ্রামে আজ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হলে নির্বাচনে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকার হবে না। সেনাবাহিনীর দরকার হবে না।গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে।’ গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলে দেশে সুশাসন থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত‍উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা  ইন্দিরা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দলের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার, আসলামুল হক আসলাম প্রমুখ।

ইএইচএস/এপিএইচ/
আরও পড়ুন:  এখন সংলাপেই সমাধান দেখছে বিএনপি