রানা প্লাজার জায়গা এখন দেখতে যেমন

সরানো হচ্ছে স্থাপনাচার বছর যেতে না যেতেই সাভারের রানা প্লাজা ভবনের জায়গায় অবৈধ দখলদারদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। কাস্তে হাতে শ্রমিকের দুই হাতের একটি ভাস্কর্য-ই কেবল সাম্প্রতিককালের নিষ্ঠুরতম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শুধু দখলই নয়, হাজারো পোশাক শ্রমিকের রক্ত, মাংস, হাড় মিশে থাকা রানা প্লাজা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে বৃহস্পতিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জায়গা জুড়ে অযত্ন, অবহেলা ও ময়লা-আবর্জনার চিহ্ন। শুধু তাই নয় ওই ভবনের সামনের ভাস্কর্যের পাশ দিয়ে কেউ ময়লা আবর্জনা ফেলছেন, কেউ দোকান ভেঙে স্তূপ করে রেখেছেন। কেউ কেউ আবার অঘোষিত টয়লেট বানিয়ে ফেলেছেন।

18053490_1331121856923857_1276658887_o
কিছু দখলদার নিজেদের আহত শ্রমিকদের স্বজন দাবি করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের দোকান তুলে ব্যবসা করছেন। এমনি একজন দোকানদার কমল। কমল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মুক্তা নামে তার এক বোন রানা প্লাজার শ্রমিক ছিলেন। ধসের সময় সেই বোন আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন। সেই অধিকারের জোরেই তিনি এখানে চায়ের দোকান তুলে ব্যবসা করছেন। তবে কমল তার আহত বোনের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ধসে পড়া ভবনের কত তলায়, কোন গার্মেন্টে, কোন পদে চাকরি করেছিলেন এবং সেই বোনের বস্থান অবস্থা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি তিনি।
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মাহমুদুল হাসান হৃদয় নামে একজন বলেন, ‘কমল মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আসলে তার কোনও বোন রানা প্লাজার ভবন ধসে আহত হয়নি। দোকানদাররা আসলে রানা ও গোবিন্দর লোকজন। এখনও এই জায়গা দখলে রাখার চেষ্টা করছে তারা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তাসহ ধসে পড়া ভবনের জায়গা দখলের জন্যই একটি চক্র এই জায়গা ঘিরে বিভিন্ন দোকানঘর ও স্থাপনা তুলে ভাড়া গুনছে।’

18012771_1331121840257192_1693889393_o
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারেরএই জায়গার মালিকানা বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা ভবিষ্যতে যাতে কার্যকর হতে না পারে, সেজন্যই স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি চক্র কৌশলে এই জমির আশপাশে স্থাপনা তৈরি করে দখল করার পাঁয়তারা করছে। যারা সবাই গোবিন্দ ও রানার প্রভাব বলয়ের।’
গত কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙার কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন দোকানি বলেন, ‘বড় ভাইয়ের আগামী ২২ এপ্রিলের মধ্যে সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ২৪ এপ্রিল ভবন ধস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। তাই আগে থেকেই জায়গাটি পরিষ্কার করা হচ্ছে। এরপর আবার দোকান করা যাবে।’
কারা সেই বড় ভাই-এমন প্রশ্নে বাংলা ট্রিবিউনকে দোকানদার রফিক বলেন, ‘ওই যে শ্রমিক সংগঠনের ভাইয়েরা।’
/এফএস/এসটি/