যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তিন সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শনিবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরেই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও মানসিক দৃঢ়তার কারণেই কেবল পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহেই এই নির্মাণকাজ এতো দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, “সবই ছিল, কেবল ছিলেন না এই প্রকল্পের (পদ্মা সেতু প্রকল্প) রূপকার (শেখ হাসিনা)। আমি বারবার বলেছিলাম সাতদিন পিছিয়ে দিই। তখন তিনি বলেছেন, ‘গভীর কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। আমার জন্য পদ্মা সেতুর কাজ এক মিনিটও বিলম্বিত হবে না’। সেটাই আমদের প্রেরণা।”
গত ৩০ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর দুটি পিলারে প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়। এরকম ৪১টি স্প্যানের ওপর দিয়েই চলবে গাড়ি। ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন শেখ রেহানা
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ছোট বোন শেখ রেহানা আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ রেহানার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ রেহানা বলেছিল, ‘১৬ কোটি লোককে ভাত খাওয়াচ্ছো, আর সাত-আট লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবা না!’ এই কথাটা আমাকে আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছিল। এছাড়া নেতাকর্মীরাও মানবিক দিক বিবেচনায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা পেরেছি।’’ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তাদের জন্য অনেকেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। সে দরজা খুলেছে বাংলাদেশ।
মিয়ানমারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এমন একটা ভাব দেখালো, যেন যুদ্ধই বেঁধে যাবে। উস্কানি দেওয়া এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলো, যেন বিশ্ব অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে। তখন আমি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলার কথা বলি। আমার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন কোনোকিছুতে না জড়াই, সে কথাও বলি। অন্যদিকে, রোহিঙ্গারা যারা আসছেন, তাদের সহযোগিতায় যা যা দরকার তাই করতে থাকি।’
নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী বাসস্থান গড়ে পুনর্বাসন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় দেশের বাইরে থাকলেও অফিসের কাজ করে গেছেন এবং তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গাদের জন্য কে কী দেবে এই আশায় বসে থাকিনি
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা মানবিক কারণেই অব্যাহত রাখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কে কী দেবে এই আশা নিয়ে আমরা বসে থাকিনি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এখন আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আলোচনা শুরু করায় আমি মিয়ানমারকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবো।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যে কোনও মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। মিয়ানমার যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছিল, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ মানবতা দেখিয়েছে। আমরা কারও সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করিনি। তবে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ।’
যা কিছু অর্জন তার সবই এ দেশের মানুষের দোয়ায়
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বসভায় তুলে আনা আমার লক্ষ্য ছিল। এটুকু বলবো, যা কিছু দেশের জন্য করতে পেরেছি, যা কিছু অর্জন, সবই এদেশের মানুষের সমর্থনে, এ দেশের মানুষের দোয়ায়।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি তারা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিতে চায়। তারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করেনি, আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। তবে এখন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ফিরতে শুরু করেছে। বিশ্বমন্দা থাকার পরও দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি।’
আরও পড়ুন”
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা মাশরাফির
প্রধানমন্ত্রীকে ছয় মাস খুব সাবধানে চলাফেলা করতে বলেছেন চিকিৎসকরা