মিয়ানমারে বিশেষ করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, আগুন দেওয়া এবং অন্যান্য অপরাধের ঘটনায় ‘চরম মর্মাহত’ হয়েছে জাতি সংঘের মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।
এক সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থানের পর শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান বলেন, ‘আমরা সফর শেষে অত্যন্ত মর্মাহত। আমরা উত্তর রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে বসবাসকারী অনেক লোকের ঘটনা শুনেছি। তারা বলেছে, পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক কার্যকলাপের মাধ্যমে সেখানে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে, এর পরিণামে লাখ লাখ রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের আরেক সদস্য রাধিকা কুমারাস্বোয়ামী বলেছেন, যে দুর্দশা ও নৈরাশ্য দেখেছেন, তাতে তিনি ’মর্মাহত এবং রাগান্বিত।’
তিনি বলেন, ‘আমার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সমস্যার ভেতর দিয়ে কাজ করতে গিয়ে যেসব যৌন নিপীড়নের ঘটনা শুনেছি,এখানকার ঘটনা তার সবচেয়ে খারাপগুলোর সঙ্গে তুলনীয়।’
রাধিকা বলেন, ‘আমি একজনের ইন্টারভিউ করেছি। তার চোখে যে মানসিক আঘাতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে, সেটি অত্যন্ত দৃশ্যমান। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হওয়াটা কখনও ঘটতে দেওয়া যাবে না।’
জাতি সংঘের তিন সদস্যের এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক মারজুকি দারুসমান (মিশন প্রধান),সদস্য হিসেবে শ্রীলঙ্কার রাধিকা কুমারাস্বোয়ামী ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি গত রবিবার ঢাকা আসেন। পরে তারা কক্সবাজারের কুতুপালং, বালুখালী ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার তারা পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। শুক্রবার সকালে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
ক্রিস্টোফার ডমিনিক সিডোটি বলেন, ”রোহিঙ্গাদের নিজ গৃহে ফেরত যেতে দিতে হবে। এর জন্য আন্তর্জাতিক মনিটর সংস্থার প্রয়োজন হতে পারে।”
মিয়ানমার বিশেষ করে রাখাইনে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের জন্য গত মার্চে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে দায়িত্ব দেয়।
এই মিশন যদি তাদের রিপোর্টে বলে যে, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বিচার পাওয়ার বিষয়টি তারাই (জাতিসংঘ) নিশ্চিত করবে।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন আগামী বছরের (২০১৮) মার্চে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দেবে। আগামী সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার কাউন্সিলে এবং জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে তথাকথিত ’ক্লিয়ারেন্স অপারেশনস’ শুরু হওয়ার পর থেকে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এরমধ্যে বহুসংখ্যক শিশু রয়েছে। নিহতদের সংখ্যা জানা না গেলেও এর পরিমাণ অনেক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্জিত সুনাম নির্বাচনি কাজে লাগাতে চায় আ. লীগ