মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ২৮তম বৈঠকে এ সাব কমিটি গঠন করা হয় বলে ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সংসদে উত্থাপিত বিলে ছোট-খাটো ভুলভ্রান্তিসহ কিছু অস্পষ্টতার বিষয় কমিটির নজরে এসেছে। এজন্য কমিটি এগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাব কমিটি গঠন করেছে।’
কোন ধরনের ভুলভ্রান্তি রয়েছে জানতে চাইলে সাবেক সেনা কর্মর্কতা ফারুক খান জানান, সংবিধান অনুযায়ী কেউ কর্মকর্তা নন-সবাই প্রজান্ত্রের কর্মচারী। কিন্তু বিলে কোথাও কর্মকর্তা,আবারও কোথাও কর্মচারী লেখা হয়েছে। এ ধরনের আরও কিছু ভুলভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা রয়েছে। এছাড়া, তিন বাহিনীর মধ্যে একটা সমন্বয়ের বিষয়ও এখানে রয়েছে।
সাব কমিটির প্রধান জানান, সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন উইং, আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখাসহ বিলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে তারা বিলটির অস্পষ্টতাগুলো খুঁজে বের করে, তা স্পষ্ট করার সুপারিশ করবেন। পরে সেটা সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেবেন।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এবং হোসনে আরা বেগম অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, বিশেষ আমন্ত্রণে আইনমন্ত্রী (সংসদের কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী) আনিসুল হকও বৈঠকে অংশ নেন।
গত ১৪ নভেম্বর ‘সেনানিবাস বিল ২০১৭’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটি ‘সেনানিবাস বিল ২০১৭’ এর সংশোধন ও পুনঃপ্রণয়নের জন্য আনা বিলের অস্পষ্টতা দূর করে জনবান্ধব আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, তিন বাহিনী এবং সংসদ সচিবালয়ের আইনশাখার প্রতিনিধির সমন্বয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করে।
বৈঠকে ‘দ্য ক্যান্টনমেন্ট অ্যাক্ট ১৯২৪’ ও ‘সেনানিবাস আইন ২০১৭’ এর তুলনামূলক তথ্যাবলী এবং সংশোধনীর যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, বিভিন্ন দফতর ও স্থাপনা পরিদর্শনে সম্ভাব্য পরিদর্শনসূচি প্রণয়নের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এদিকে, বৈঠকে পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয় বলে ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান।
আরও পড়ুন:
রসিক নির্বাচন: বিএনপির মেয়র প্রার্থী বাবলা ঋণখেলাপি, দাবি সোনালী ব্যাংকের