‘এখনও লাশ দেখতে পারিনি, শনাক্ত করবো কীভাবে’ (ভিডিও)

হাসপাতালে কথা বলছেন বাসিমাহ সাইফুল্লাহইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের সবার ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন হলে স্বজনদের শনাক্ত করতে দেবে নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতাল। নিহত ক্রু খাজা শফির বোন বাসিমাহ সাইফুল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার (১৪ মার্চ) তিনি বলেছেন, ‘তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) বলছে, সব লাশের ফরেনসিক টেস্টের পর আমরা দেখতে পারবো। যেগুলো শনাক্ত করা যাবে (মুখ দেখে চেনা), সেগুলো আগে ছেড়ে দেবে। তবে মাঝপথে কাউকে লাশ দেখতে দেবে না।’
স্বজনদের দাবি, যাদের মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব তাদের দেখার অনুমতি দেওয়া হোক। তাদের মধ্যে বাসিমাহ সাইফুল্লাহর মন্তব্য, ‘স্বজনদের আনাই হয়েছে লাশ শনাক্তকরণের জন্য। কিন্তু এখানে (হাসপাতাল) আমাদের একটি ফরম ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনও কোনও লাশ দেখতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একই কথা—সবার ফরেনসিক টেস্ট শেষ হলে দেখতে দেওয়া হবে।’
বাসিমাহ সাইফুল্লাহর অভিযোগ, লাশ শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগে সরকারি কোনও সহায়তা মিলছে না। সহযোগিতা পাচ্ছেন না দূতাবাসেরও। তার ভাষ্য, ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই কাজগুলো করছি আমরা। আমাদের সঙ্গে কোনও সরকারি লোক নেই। দূতাবাসের কোনও সহযোগিতা পেলাম না। ইউএস বাংলা আমাদের কিছু লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছে। কিন্তু বিস্তারিত তথ্যগুলো আমরা নিজেরা জেনে নিচ্ছি।’
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) বাংলা ট্রিবিউনকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠা। তিনি জানান, ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে স্বজনদের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার পর শনাক্ত করা গেলেই লাশ হস্তান্তর করা হবে। এরপরও শনাক্ত করা না গেলে ডিএনএ পরীক্ষা করে লাশ হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ লাশ ঝলসে গেছে। শনাক্ত করা খুব কঠিন।’

ডা. প্রমোদ শ্রেষ্ঠার কথায়, ‘বাংলাদেশ থেকে আসা স্বজনদের অ্যান্টিমর্টেম ফরম পূরণ করে দিতে বলেছি। পরিবারের সদস্যরা মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে যে অ্যান্টিমর্টেম ডাটা দিয়েছেন, সেগুলো ধরে ধরে সংগ্রহ করছি। যেমন ধরুন—উচ্চতা, ওজন, চোখের রঙ, কোনও ব্যক্তিগত অলঙ্কার, ট্যাটু বা যেকোনও চিহ্ন। দাঁতের চিকিৎসা করানো থাকলেও ময়নাতদন্তে কাজে আসবে। আমরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর অ্যান্টিমর্টেম ডাটার সঙ্গে মেলানোর কাজটি করবো। যদি এটাতেও না হয় তাহলে ফিঙ্গারপ্রিন্টের দিকে যাবো। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো আরও তিন চারদিন লেগে যাবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের সঙ্গে স্বজনদের তথ্য মিলিয়ে চিহ্নিত করা গেলে পুলিশকে জানানো হবে। এরপর বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’

সোমবার (১২ মার্চ) চার ক্রু ও ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় এতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে সেটি বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ২৬ জন। এছাড়া বেঁচে আছেন আরও ১০ বাংলাদেশি।

* নিহত ক্রু খাজা শফির বোন বাসিমাহ সাইফুল্লাহর কথা: