নেপাল গেলো মেডিক্যাল টিম (ভিডিও)

নেপালে যাওয়া মেডিক্যাল টিমের সদস্যরাইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের ডিএনএ’র নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি মেডিক্যাল টিম নেপালে পৌঁছেছে। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস একথা জানিয়েছেন।

এর আগে ৬ সদস্যের মেডিক্যাল টিম ও দুজন সিআইডি কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেয়।

৯ সদস্যের মেডিক্যাল টিম নেপালে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনজন ভিসা সংক্রান্ত জটিলায় যেতে পারেননি। তারা পরে যাবেন বলে জানা গেছে। টিমের সদস্যরা হলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুতফর কাদের লেনিন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, ঢামেকের সহকারী অধ্যাপক ডা. হোসেন ইমাম, অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, ডা. একেএম ফেরদৌস রহমান ও ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া এই টিমে আরও আছেন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সহকারী অধ্যাপক ডা. মুশফিকুর রহমান, ডা. রিয়াদ মজিদ ও সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাজিব আহমেদ।  

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয় নেপালগামী চিকিৎসক টিমের। নেপালে কতদিন থাকার পরিকল্পনা আছে—এ বিষয়ে ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কোনও নির্দিষ্ট টাইমফ্রেম নাই। আমরা সেখানে যাবো, এরপর পরিস্থিতি অবজারভেশন করবো। এরপর পরিস্থিতি বলে দেবে আমাদের সেখানে কতদিন থাকতে হবে।’

চিকিৎসা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নেপালের চিকিৎসকদের আমরা সাহায্য করবো। মূলত তাদের অ্যাসিস্ট করতেই আমরা সেখানে যাচ্ছি।’  

ড. হোসেন ইমাম নামের বলেন, ‘আমরা আহতদের এনসিওর করবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে আছেন। যত রকমের সাহায্য দরকার তা করা হবে। আমাদের প্রধান কাজ হলো তাদের সাহায্য করা।’

চিকিৎসার সরঞ্জামাদি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরঞ্জামাদির ব্যাকআপ আছে। আমরা আসলে প্ল্যান করবো কী করতে হবে। ওইখানে তিনটি হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছে। ওখানে বসে নেপালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করবো করণীয় কী।’

নেপালে যাওয়া মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা

গত সোমবার নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমান ৬৭ যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। এছাড়া, ১০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখানকার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের জানিয়েছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত ১০ শতাংশ ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। বাকিদের ক্ষেত্রে দাঁত ও হাড়ের রেকর্ড; কোনও অলঙ্কার বা ধাতব বস্তু বা অন্য কোনও ধরনের শনাক্তকরণ চিহ্ন দেখে শনাক্ত করা হয়। আমি কয়েকটি মৃতদেহ দেখেছি। আমার মনে হয়েছে খালি চোখে তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যে ১০ জন বাংলাদেশি এখানে চিকিৎসারত আছেন, তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া আরেকজন আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় ফেরত যাবেন বলে আশা করছি।’

নেপালের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যে মর্গে মৃতদেহগুলো রাখা হয়েছে সেখানে শুধু বাংলাদেশিদের নয়, নেপালিদের মৃতদেহও রাখা আছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, তাদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে মৃতদেহগুলো দেখতে দেবেন না।’