আজ ঢাকায় ফিরছেন ৩ জন, কাঠমান্ডুতেই থাকতে হবে ইমরানা ও ইয়াকুবকে

কাঠমান্ডুর হাসপাতাল ছাড়ছেন মেহেদি, স্বর্ণা ও অ্যানিনেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে আজ শুক্রবার তিনজন ঢাকায় ফিরছেন। তারা হলেন মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা এবং মেহেদীর ভাবি আলমুন নাহার অ্যানি। আহতদের মধ্যে ইয়াকুব আলী ও ইমরানা কবীর হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আপাতত তাদের কাঠমান্ডুতে রেখেই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাদের সেখানেই রাখা হচ্ছে।

ইমরানা কবীর হাসির দেবর সামির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাবিকে নেপালের হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়নি মেডিক্যাল টিম। তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তাই এখন সরানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চেয়েছিলাম ভাবিকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে দিল্লিতে নিতে। কিন্তু তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল ও আনস্টেবল হওয়ায় মেডিক্যাল টিম সায় দিচ্ছে না।’ ইমরানা কবীর হাসি কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ (কেএমসি) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ’তে রয়েছেন।মেহেদী, স্বর্ণা, অ্যানি

এদিকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদীর ভাবি আলমুন নাহার অ্যানিকে। তাদের আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার ফ্লাইটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হবে। তাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে। বেলা ১২টার দিকে তারা বিমানবন্দরের উদ্দেশে হাসপাতাল ছাড়েন বলে জানান স্বজনরা।

এদিকে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শাসম বাংলাদেশি আহতদের পরিদর্শন শেষে কেএমসি-তে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আহত ইয়াকুব আলীকেও নেপাল থেকে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। নেপালে তার যে চিকিৎসা হচ্ছে অন্য দেশেও একই চিকিৎসা হবে। তাই নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইয়াকুব আলীকে সরানো হবে না।’

কাঠমান্ডু ছাড়ছেন আহত তিন বাংলাদেশি

গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা’র একটি বিমান ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ১০ বাংলাদেশি আহত হন। ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সাতজনকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি ০৭২) নেপাল থেকে শাহরিন আহমেদ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

ছবি: রাজীব ধর।