সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশে সরকারি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন নানক। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোটা থাকলেই সংস্কার, না থাকলে ঝামেলা নেই। তাই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নেই।
তবে সংবিধানে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরি ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুযোগের কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কোটা না থাকলেও সরকার এখন কোটা সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও শ্রেণি যেন বঞ্চিত না হয়, অনগ্রসর শ্রেণি যেন বঞ্চিত না হয়, সেটা সংবিধানে বলা আছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী, প্রতিবন্ধী—তারা যেন বঞ্চিত না হয়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য কোটা করেছি। জেলা কোটা রয়েছে। অথচ জেলায় জেলায় ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে। নারী কোটা আছে। অথচ গভীর রাতে হলের গেট ভেঙে মেয়েরা রাস্তায় এসেছে। জেলার অধিবাসীরা কোটা চায় না, মেয়েরা কোটা চায় না।
এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে কোটা তুলে দেওয়ার কথা বললেও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা প্রতিবন্ধী, যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য—তাদের জন্য অন্যভাবে আমরা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারব। তারাও জয়েন (সরকারি চাকরিতে) করতে পারবে। কিন্তু কোটা নিয়ে এই যে আন্দোলন, আমি ছাত্রদের বলব, তাদের আন্দোলন তারা করেছে, যথেষ্ট। এখন তারা ক্লাসে ফিরে যাক।’
বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বলেন, ‘কেউই যখন এই কোটা চায় না, তাহলে আর কোটার দরকার কী? আমি বলে দিলাম, কোটাই থাকবে না। কোটার দরকার নাই। ঠিক আছে, বিসিএস যেভাবে পরীক্ষা হবে, মেধা থেকে নিয়োগ হবে। কারও কোনও আপত্তি থাকার দরকার নেই।’
আরও পড়ুন-
কোটা বাতিল, পরিষ্কার কথা: প্রধানমন্ত্রী
কোটা নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী যা যা বললেন
সবার চোখ সংসদে, কোটা নিয়ে কী বলবেন প্রধানমন্ত্রী
‘ভিসির বাড়ি লুটের মাল ছাত্রদেরই খুঁজে বের করে দিতে হবে’
ঢাবি ভিসির বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই: প্রধানমন্ত্রী