প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নীল অর্থনীতির সুফল পেতে হলে সামর্থ্য বিনির্মাণ এবং প্রযুক্তি, গবেষণা ও উত্তম উদ্যোগ বিনিময়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর তাদের অঞ্চলের বাইরেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। নীল অর্থনীতির ধারণা বেগবান হওয়ায় এই প্রয়োজনীয়তাটা আরও পরিষ্কার হয়েছে।’
কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের ২৫তম বৈঠকের (সিএইচওজিএম) উদ্বোধনী দিনে ‘একটি অধিকতর সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ (কমনওয়েলথ ব্লু চার্টার)’ শীর্ষক এক অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কমনওয়েলথ নীল সনদ গ্রহণকে পুরোপুরি সমর্থন করে। বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশ। বিমসটেক, সার্ক ও আইওআরএ-এর সদস্য হিসেবে আমাদের মহাসাগর, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য নিরলসভাবে নীল অর্থনীতিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। এই সনদে ব্লু চার্টার অ্যাকশন ফান্ড ও ব্লু চ্যাম্পিয়ন্স গঠনসহ বেশ কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ সনদকে যথাশিগগির সম্ভব কার্যোপযোগী করে তুলবে।’
‘একটি অধিকতর সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ (কমনওয়েলথ সাইবার ডিক্লারেশন)’ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইসিটি খাতের উন্নয়ন বাংলাদেশে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার, যা ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন অর্জন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং এ সংক্রান্ত সামর্থ্য নির্মাণ ডিজিটাল বিভাজন হ্রাস, দারিদ্র্য প্রশমন, টেকসই উন্নয়ন ও সার্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের গোড়ার কথা। বিশ্বে বর্তমানে যেখানে আমাদের অর্থনীতিগুলো বর্ধমান হারে অবাধ ও তথ্য প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে সেখানে বিভিন্ন দেশ, সেক্টর ও সংস্থাগুলোতে একটি মুক্ত, গতিশীল ও নিরাপদ ইন্টারনেটের জন্য আমাদের বৈশ্বিক তথ্য ইকোসিস্টেমে উন্মুক্ততার প্রসারে কাজ করা উচিত।’
এ ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘একই সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সাইবার হামলা ও সন্ত্রাসবাদের প্রচারের হুমকি মোকাবেলাও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
কমনওয়েলথ সাইবার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘোষণার রূপরেখা অনুযায়ী সাইবার গভর্ন্যান্সে সহযোগিতার জন্য মূলনীতি ও দিকনির্দেশনাসমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি এ ঘোষণা আশু বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে যথাযথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কমনওয়েলথ সচিবালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস।
আরও পড়ুন-
বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে কমনওয়েলথের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
‘সব বিষয় নিয়েই’ আলোচনা করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী