রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিসহ জড়িত অন্য বেসামরিক রাজনৈতিক নেতাদেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বার্মিজ গবেষক ও ভিন্নমতাবলম্বী মং জার্নি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিটলারের অপপ্রচারণা প্রধান জোসেফ গোয়েবলসের মতো সু চিরও বিচার হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘সু চি পররাষ্ট্র, তথ্য, ধর্ম, অভিবাসন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং এই মন্ত্রণালয়গুলি সরাসরিভাবে গণহত্যা চালানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। জাতিসংঘ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তার রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে বলেছে, সু চি এই গোটা প্রক্রিয়ায় দোষী।’
জার্নি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে তারা বলেছে, সু চি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের কাজে বাধা দিয়েছেন।’
জাতিসংঘ মিশনের রিপোর্ট সু চিকে নিন্দনীয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে তা মিয়ানমারের জেনারেলদের মতো নয়।
জার্নি মনে করেন, যুগোস্লাভিয়া বা রুয়ান্ডার মতো মিয়ানমারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক আদালত গঠন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচারের বিচার করতে চায় না মিয়ানমার এবং এ জন্য বৈশ্বিকভাবে এর বিচার করতে হবে।
মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ সুফিয়ুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩৬ হাজার অনাথ এবং ৬০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন সময় হয়েছে এত অনাথ শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী বাংলাদেশে আসার কারণ কী মিয়ানমার জেনারেল ও বেসামরিক সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। আমরা এর জন্য অনাদিকাল অপেক্ষা করতে পারি না এবং একইসঙ্গে আমরা চাই প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু হোক।’
মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হকও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘সু চির সঙ্গে সঙ্গে অন্য নেতাদেরও বিচার হওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘এই বেসামরিক সরকার মিথ্যা খবর ছড়িয়ে এবং সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করার মাধ্যমে তাদের সহায়তা করেছে।’
এদিকে আজ সোমবার রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসামরিক নাগরিক রক্ষায় মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চি সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের ক্ষমতা কাজে লাগাননি অথবা তাদের রক্ষায় দায়িত্ব পালনে বিকল্পও অনুসন্ধান করেননি।