বুধবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকদিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের কোনও সুযোগ নেই। আমরা আশা করছি আগামী নির্বাচন একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’
জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘গত তিনটি সিটি নির্বাচনের কয়েকটা কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে এর অপরিহার্যতা বোঝানো হয়েছে। ইভিএম সবচেয়ে প্রযুক্তির লেটেস্ট উদ্ভাবন। ভারতেও বেশ কয়েকটি নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হয়েছে। পৃথিবীর উন্নত দেশে ইভিএম ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানেও তা হবে।’
বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর আলোকপাত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নতুন করে পরিচয় করানোর দরকার নেই। তিনি তার নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা, দক্ষতা দিয়ে মানুষের মন জয় করেছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের বাঙালি যতদিন থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন।’
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে কত পরিবার নিঃস্ব করে দিয়েছেন বেগম জিয়া ও তারেক রহমান! আর আজ বিএনপির নেতারা গ্রেনেড হামলার বিচার চান! বিচার চাইলে জজ মিয়া নাটক সাজাতেন না। বিচার চাইলে তদন্ত করতেন। বিচার চাইলে হত্যার সব আলামত নষ্ট করে দিতেন না। আমরা কি ভুলে গেছি, রাজনীতিতে এরকম নিষ্ঠুর রসিকতা বিএনপির পক্ষেই সম্ভব! বাংলাদেশে এই দলটি যতদিন থাকবে, ততদিন এই দেশে অশান্তি লেগে থাকবেই।’
আলোচনা সভায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ায় যেসব অন্তরায় রয়েছে তা সমাধানের জন্য পুনরায় আল্টিমেটাম দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে বলেছেন, আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত কিংবা ড. কামালরা যে ষড়যন্ত্র করছেন, তা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘যেসব দেশে ১৫ আগস্টের খুনিরা আছে, ষড়যন্ত্রকারীরা আছে, তাদের এনে বিচার না করা পর্যন্ত ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘কামাল সাহেবরা বলছেন দেশে নাকি ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। আমি বলি, কীসের ক্রান্তিকাল! ক্রান্তিকাল তাদের, যারা এ দেশে রাজনীতির নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে চায়।’
মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আখতার হোসেন প্রমুখ।