সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ে তুলবো। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার ডিজিটাল প্রযুক্তিরই অংশ। আমরা ইভিএম নিয়ে আসার পক্ষে। তবে, হ্যাঁ এটা ঠিক, তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটাকে পরীক্ষামূলক করে দেখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেপাল সফর বিষয়ে রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকাল চারটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমরা সীমিত আকারে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করি। কিছু কিছু জায়গায় ইভিএম শুরু হোক। শহরভিত্তিক শুরু হোক। আস্তে আস্তে মানুষ এটা দেখুক। প্রযুক্তিতে কোনও রকম সিস্টেম লস হয় কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা যায়। কোথাও সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করে দিয়ে আবার ব্যালট পেপার ব্যবহার করা যাবে। এটাই শেষ কথা তা তো নয়। এখানে আপত্তির কী আছে?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা আমাদের আগেই রয়েছে। ইভিএম তারই একটি অংশ যে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে । ইভিএম নতুন প্রযুক্তি। এখন আমাদের সবার কাছে বায়োমেট্রিক আইডি কার্ড রয়েছে। সবকিছু এখন অনলাইনে হচ্ছে। তবে, হ্যাঁ টেকনোলজি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি মাঝে মাঝে সমস্যাও সৃষ্টি করে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। ইভিএম পদ্ধতিতে ইলেকশন কিন্তু পৃথিবীর বহু দেশেই হয়। আমিই সবসময় ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে আসার পক্ষে ছিলাম। এখনও পক্ষে আছি। তবে, তাড়াহুড়া করে এটাকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। এটাকে আমাদের পরীক্ষামূলক করে দেখতে হবে।’
সম্প্রতি কয়েকটি সিটি করপোরেশনে পরীক্ষামুলক ইভিএম ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে সরকার প্রধান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেশ কয়েকটি জায়গায় ইভিএমে ইলেকশন হয়েছে। এতে সুবিধা হলো ভোটাররা যাচ্ছেন, টিপ দিয়ে ভোটটা দিয়ে চলে আসছেন। আর সঙ্গে সঙ্গে ফলটা পেয়ে যাচ্ছেন। ইলেকশনটাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহি করার জন্য আমরা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকাসহ যা যা পরিবর্তন দরকার, তার সবই আওয়ামী লীগই করেছে। আমরা চাই মানুষের ভোটের অধিকারটা তাদের হাতে থাকুক।’
বিএনপির ইভিএম বিরোধিতার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম নতুন প্রযুক্তি। বিশ্বব্যাপী এটা চলমান। এর বিরুদ্ধে বিএনপি খুবই সোচ্চার। আর এটা স্বাভাবিক। কারণ বুঝতে হবে, তাদের জন্মস্থানটা কোথায়। ইভিএম চায় না এই কারণেই, এটা হলে তারা কারচুপি করতে পারবে না। একটার জায়গায় দুই/তিনটি ব্যালট দিতে পারবে না। সিল মেরে বাক্স ভর্তি করতে পারবে না। অনেক কিছুই পারবে না। সেজন্যই তারা আপত্তি জানাচ্ছে। এটা তো খুব স্পষ্টতই বোঝা যায়।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভোটচুরির টেকনিক রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কারচুপির ভালো টেকনিক আছে, যা আমরা এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি। অনেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন কিন্তু তাদের টেকনিক ধরতে পারেননি। তারা নানাভাবে এটা করে। তাদের অর্থের অভাব নেই। ব্যালট একটা নয়, একটা কেন্দ্রে হতে পায় সঙ্গে আরও দুটো থাকে।’
নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে কারচুপি তো জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। আর সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশ চলেছে। বিএনপি যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে, তখন তাদের জন্ম কোথায়, তা খোঁজ করুন। তাদের প্রতিষ্ঠা কোন লগ্নে শুভ না অশুভ? এখন তাদের মুখে ভোট কারচুপির কথা শুনতে হয়। কারচুপি করে এসেছিল বলে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দেড়মাস পরে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যাদের জন্ম কারচুপির মধ্য দিয়ে, তারাই এখন কারচুপির বিরুদ্ধে কথা বলেন।’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক) সম্মেলনে যোগ দিতে দুদিনের সরকারি সফরে নেপাল যান। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দেশে ফেরেন তিনি।