এনআরসি থেকে যাদের নাম বাদ পড়ছে, তাদের সাধারণত অবৈধ বিদেশি বা বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হলেও তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, এ কথাটা ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের কেউ এতদিন স্পষ্ট করে বলেননি।
অবৈধদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার ব্যাপারে ভারত সরকারের অবস্থান কী— দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে প্রশ্নের জবাবও বারবার এড়িয়ে গেছে। কিন্তু রাম মাধব জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের গাইডিং প্রিন্সিপাল হলো তিন ডি। এগুলো হলো—ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। প্রথম ধাপে অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত বা ডিটেক্ট করা হবে, যে কাজটা এখন চলছে। দ্বিতীয় ধাপে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা ডিলিট করা হবে, সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হবে। তৃতীয় বা শেষ ধাপে তাদের বাংলাদেশেই ডিপোর্ট করা হবে।’
বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও এই ডিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভারতের কোনও অসুবিধা হবে না বলেও রাম মাধব দাবি করেন। তার মতে, বাংলাদেশও এখন আশ্রয় নেওয়া লাখ-লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে বিস্তর আলোচনাও চালাচ্ছে।
রামমাধব আরও বলেন, ‘এমনকি সৌদি আরবও জাহাজভর্তি করে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠায় মাঝে মাঝে। তারা পাকিস্তানিদেরও পাঠায়, ভারতীয়দেরও পাঠায়। কাজেই এর মধ্যে অসুবিধার কিছু নেই।’
দিল্লিতে দক্ষিণপন্থী একটি থিংকট্যাংক আয়োজিত যে সভায় রাম মাধব এ মন্তব্য করেন, সেখানে অন্যতম বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালও।
সর্বানন্দ সোনোওয়াল সেখানে তুমুল করতালির মধ্যে বলেন, ‘অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করতে আসামের পর এবার সারা ভারতেই এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করছিলেন ক্ষমতাসীন বিজেপির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র এমপি বিনয় সহস্রবুদ্ধে। সভাপতির ভাষণে তিনি মুম্বাইয়ের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন, ‘‘ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানীর শহরতলী এলাকা ভায়াণ্ডারের কাছে অবৈধ বাংলাদেশিরা গোটা একটা মহল্লাজুড়েই বসবাস করছে, যার নাম ‘বাংলাদেশি বস্তি’। ফলে আজই যদি আমরা অবৈধ বিদেশিদের তাড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক না হই, মুম্বাই বা আসামের মতো গোটা ভারতেই এই সমস্যা কিন্তু আমার-আপনার দোরগোড়ায় এসে কড়া নাড়বে।’’
উল্লেখ্য, কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের বিতাড়নে’র ইস্যু ভারতের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে অতীতেও মাথাচাড়া দিয়েছে বারবার। ভারতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এনআরসিকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে সেই পুরনো ইস্যুকেই আবার খুঁচিয়ে তুলতে চাইছে, রাম মাধব-সর্বানন্দ সোনোওয়াল-সহস্রবুদ্ধ তা-ই পরিষ্কার করে দিলেন এবার।