‘সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন, আমাদের উদ্বেগ দেখবে কে’

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‘সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে। বা যারা ভিকটিমাইজ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে। আর তাদের কীভাবে কম্পোনসেট করবেন। ওই জায়গায় একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। তারপর এটা অনলাইনে ছিল। এটা সকলের সঙ্গে আলোচনাও হয়ে গেছে। এরপর এসে হঠাৎ এত উদ্বেগ হয়ে গেল কিসের জন্য, আমার কাছে সেটা প্রশ্ন। কারও যদি অপরাধী মন না থাকে, বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এরকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনও কারণ নেই। আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেফতার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। আগে তো ছট করে ধরে নিতো। আপনারা সাংবাদিকরা যাদের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের জন্য কি করতে পেরেছেন। আর আপনারা এখন উদ্বিগ্ন, আমার যেটা মনে হয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক। বৈঠকে আমি এমন এমন মানুষ দেখেছি। মানে লেখা তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা আমার বিরুদ্ধে চালাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যত দিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিক জ ই মামুন জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এখানে স্পষ্ট বলবো, যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনও অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না; তাদের উদ্বেগ হওয়ার কিছু নাই। সেখানে আইনের যেটা দেওয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছে, তা-ই দেওয়া আছে। সেখানে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের ট্র্যাক করার জন্য। এখন ট্র্যাক করার পর তো বসে থাকা যাবে না। তাকে তো ধরতে হবে। কারণ, সে তো আমাদের জন্য বসে থাকবে না। সারা বিশ্ব এটাই করে। উদ্বিগ্ন তারা বেশি হবে, যারা এতদিন ধরে খুব তৈরি-টরি হয়ে আছে। নির্বাচনের শিডিউল এলে যারা আমাদের ভালো করে গায়েল করার জন্য ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে। তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা ভাবছে যে এরকম একটা মিথ্যা নিউজ করবো। এখন তো মাঠে মারা যাবে। ওখানে (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) একটা জিনিসের ল্যাপস আছে। একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিত আমি মনে করি। সেটা হলো, যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনও মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, সে সাংবাদিক যে লেখবে, যে পত্রিকা বা মিডিয়া, ইলেট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইস হোক, যে ব্যবহার করবে বা যে এটা প্রকাশ করবে, তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। এবং যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতিপূরণ হবে সেটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ইংল্যান্ডে আছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা স্মরণ করে দেখেন, বিবিসি একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিল। পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আর বিবিসির টপ টু বটম সবাইকে রিজাইন করতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আমি যখন বন্দি, আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ করা হলো, পরে সেটা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ওই পত্রিকার কোনও সাজা হলো না। কিন্তু তার সম্মান তো নষ্ট হলো। তাদের তো এই লজ্জা হয় না যে একটা মিথ্যা তথ্য দিলো। কিন্তু যার সমাজে সম্মান নষ্ট হলো, তার তো সব গেলো। পদ্মাসেতু নিয়ে যারা বড় বড় হেডলাইন লিখেছে, তারা তো এখনও সমাজে বুক উঁচু করে চলছে। কিন্তু পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে যে হেয়প্রতিপন্ন হলো; অসম্মান হলো, তাদের কে দেখবে।’

সংবাদ সম্মেলনের আরও খবর: 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

আমার ফেসবুক নেই: শেখ হাসিনা

সব দলই নির্বাচনে আসবে: প্রধানমন্ত্রী

সাম্প্রদায়িক আচরণকারীরা বিকৃতমনা

জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই: শেখ হাসিনা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী