ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল কোনোভাবেই অসাংবিধানিক কোনও শক্তিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবারের সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে একজন প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের উপদেষ্টার অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাব করা হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এতে দ্বি-মত প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যদি পদত্যাগ করি, তাহলে সর্বজন গ্রহণযোগ্য কে আছে? তাকে খোঁজার যথেষ্ট সময় নেই। এই অন্তিম সময়ে এসে এমন কাউকে খুঁজে বের করার ফাঁকে কোনও অসাংবিধানিক শক্তি, কোনও দৈত্য ঢুকে পড়তে পারে। এ ছাড়া, এই প্রস্তাব সংবিধানসম্মত নয়। কোনও দৈত্যকে সুযোগ নিতে দিতে পারি না আমি।’
সংলাপে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভাঙার জবাবে বলেছেন, সংসদ ভাঙতে হলে যৌক্তিক কারণ দরকার। সেটা এই মুহূর্তে নেই। আর নির্বাচন পেছানোর দাবিটা দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।’ এ সূত্র আরও জানায়, ঐক্যফ্রন্টের উপদেষ্টাদের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ের পর আর এ বিধান প্রযোজ্য নয়। কারণ, কেউ যদি আদালতে এর বিরুদ্ধে রিট করে, তাহলে আরও আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, আলোচনার শেষদিকে ড. কামাল সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ অন্য দাবিগুলো নিয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। আর বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং মওদুদ আহমেদ খালেদা জিয়ার জামিন দাবি করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়ার জামিনে তার আপত্তি নেই। তবে এটা দুদক ও আদলতের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর সময়ও সরকারের পক্ষে অ্যার্টনি জেনারেল সাজা বাড়ানোর আবেদন করেননি। আর আলোচনায় আপত্তি নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন নির্বাচন সংক্রান্ত অনেক কাজে ব্যস্ততা থাকায় আর বসা সম্ভব নাও হতে পারে।
আলোচনায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতারা দাবি করছেন, আর যেন মামলা দেওয়া না হয়। কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ যেভাবে সহিসংসতা উসকে দিলেন, এরপরও কি সরকার বসে থাকবে?’ তখন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা চুপ ছিলেন বলেও এ সূত্র দাবি করে।
সূত্রমতে, বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তারা নির্বাচনে আসতে চান, সেজন্য স্পেস দরকার। নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।