পরীক্ষা শুরুর মুহূর্তে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। আমরা শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী সবার কাছে পূর্ণ সহযোগিতা আশা করছি।’
প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশের কোথাও এই ধরনের তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এবারও প্রশ্নফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষা হোক। এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই হচ্ছে। কোথাও কোনও নেতিবাচক খবর পাইনি। আমি আবারও বলছি, গত বছর কোনও প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। এ বছরও সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। এবার আরও জোরদার করা হয়েছে যেন প্রশ্নফাঁস না হয়। তীক্ষ্ণ গোয়েন্দা নজরদারী চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও অপচেষ্টার প্রমাণ পেলে তাদের প্রেফতার করা হচ্ছে। আশাকরি দেশের কোথাও কেউ এ ধরনের অপেচষ্টায় যুক্ত হবেন না। যদি কেউ অপচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অভিভাক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী কেউ কোনও ধরনের অপপেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হবেন না। চাহিদা না থাকলে প্রশ্নফাঁস করার কোনও আগ্রহ থাকবে না। কাজেই সবাইকে এটা পালন করতে হবে।’
শিক্ষা বোর্ডসহ শিক্ষা প্রশাসনে বছরের পর বছর কর্মকর্তারা বদলি হচ্ছেন না, এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টা দেখবো।’
প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আজ শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের পরীক্ষায় মোট ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ৭০ হাজার ৪৪১ জন এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯২ জন। এবার আটটি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ লাখ ১০২ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৩ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন এবং কারিগরি ভোকেশনাল ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৯ জন রয়েছে। মোটে কেন্দ্রের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৯৭ এবং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮২টি। এছাড়া বিদেশি আটটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৪৩৪ জন্য পরীক্ষার্থী রয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিবন্ধীদেরকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ শিক্ষক/অভিভাবক/ সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে নজরদারি থাকবে মনিটরিং কমিটির। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সকালের পরীক্ষা ১০ থেকে ১টা এবং বিকালের পরীক্ষা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সব পরীক্ষার্থীকে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করতে হবে।
পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ব্যতীত (ছবি তোলা যায় না এমন ফোন) অন্য কেউ মোবাইল ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন।