কেন মেয়র হতে চান জানালেন আতিকুল

জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন মেয়র হতে চান জানালেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম

আমি আপনাদের ভালোবাসায় মেয়র নির্বাচিত হলে মেয়র হিসেবে আকাঙ্ক্ষা থাকবে- একটি সুস্থ, সুন্দর, যানজট,জলজট মুক্ত আধুনিক ঢাকা শহর গড়ার। সবাকেই নিয়ে সঙ্গে প্রাণের ঢাকা গড়তে চাই। এ কারণে আমি মেয়র হতে চাই।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত   ‘আমি কেন মেয়র হতে চাই’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একজন মেয়রের আকাঙ্ক্ষা থাকে একটি সুস্থ ও সচল শহর গড়ে তোলার। যে শহরে আমরা সবাই বাস করি, যে শহরে আমাদের ছেলেমেয়েরা বেড়ে উঠছে, অন্য সবার মতো একজন মেয়র প্রার্থী হিসেবে আমরাও চাওয়া সুন্দরভাবে শহরটাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাই অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে শহরটা নোংরা করি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নির্বাচিত হলে খেলার মাঠগুলোর সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করবো। ফুটপাতের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবো।

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্ব সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব সদস্য ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।  প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান খালেদ মুহিউদ্দিন, এটিএন নিউজের এডিটর প্রভাষ আমিন,  এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান খালেদ মুহিউদ্দিন মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজিনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হয়েও কীভাবে মেয়র প্রার্থী হলেন?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন আমি বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি। রানা প্লাজা’র মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কঠিন মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ নিয়েছি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে। বারবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সে সময় কথা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের জন্য প্রথমবার আওয়ামী লীগ থেকে ১৮ জন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। সেখানে ইন্টারভিউ হয়েছিল। তখন আমাকে যোগ্য প্রার্থী মনে করায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি দুইবার ইন্টারভিউ দিয়েছি। তখন নির্বাচন হয়নি। তবে রিটের কারণে আমি কিছুটা সময় পেয়েছি। অনেক এলাকায় পরিদর্শন করেছি। সমস্যা চিহ্নিত করার সুযোগ পেয়েছি। সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা করেছি।

দেশ টিভি’র নির্বাহী সম্পাদক সুকান্ত গুপ্ত অলক প্রশ্ন করেন, আনিসুল হকের পরিকল্পনা ছাড়া আপনার নিজস্ব কোনও পরিকল্পনা আছে কী? হকারদের উচ্ছেদ করলে পুর্নবাসন করবেন এর জায়গা কোথায় ?

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের যে মাঠগুলো আছে সেখানে মাটির নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে পুর্নবাসনের ব্যবস্থার সঙ্গে গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া হকারদের এলাকাভিত্তিক কার্ড করে দিয়ে  সপ্তাহে দুদিন করে অন্যান্য দেশের মতো বসানোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত সংলাপে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন তার প্রশ্নে বলেন, ৫৪ সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে সব মেয়রই নগর সরকার চায়। এ বিষয়ে দল যদি বিরোধিতা করে, তবুও নগর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন কী না?

উত্তরে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি নির্বাচন পছন্দ করি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি আগেও প্রস্তুত ছিলাম, এখনও আছি। এখন সময় এসেছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে এক ছাতার নিচে এনে কাজ করার। যদি নির্বাচিত হই, তাহলে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বর্ষাকাল শুরু হবে। তাই প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য এক ছাতার নিচে কাজ করাটা জরুরি।

সাংবাদিক রাহুল রাহা প্রশ্ন করেন, আপনি নির্বাচনি হলফ নামায় দেখিয়েছেন আপনার নগদ আছে মাত্র ৮৭ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে কিভাবে নির্বাচন করবেন?

জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম

উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমার তিল তিল করে গড়ে তোলা কোম্পানি রয়েছে। আমার যাবতীয় খরচ সেখান থেকেই আসে। সেখানে থেকেই নির্বাচনি খরচ বহন করা যাবে বলে আমি আশা করছি। ১৫০ টি মেশিন দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমার কোম্পানিতে এখন ১৯ হাজার কর্মচারী ও শ্রমিক রয়েছে। এটা অনেক সাধনার ফসল। আশা করছি, এসব খরচ এখান থেকেই করতে পারবো।

এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুনের প্রশ্ন ছিল, আইনগত ভাবে একজন মেয়রের ক্ষুদ্র ক্ষমতা দিয়ে কীভাবে সুন্দর নগরী গড়বেন?

আতিকুল ইসলাম উত্তরে বলেন, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ধুলা বালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কাজ করে চেষ্টা করবো সুন্দর নগরী গড়ে তোলার। এজন্য অবশ্যই সবার অংশগ্রহণ জরুরি।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ৫৪টি সংস্থাকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা অনেক কঠিন কাজ। মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম চ্যালেঞ্জের যে ঘোড়ার পিঠে চড়েছেন সেখানে চড়া আসলেই কঠিন। তবুও তিনি যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন আশা করি তিনি জয়ী হবেন।