আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এদেশের মানুষ সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের পথ ধরে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এদেশের মানুষ মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছে। আজ আওয়ামী লীগের হাত ধরেই গণতন্ত্রের বিকাশ হচ্ছে। উন্নত-সমৃদ্ধ পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’
বুধবার (২৭ মার্চ) বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৯ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ।
এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে বলেই গণতন্ত্রের মর্যাদা বোঝে। যে কারণে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই এদেশের মানুষ সত্যিকারভাবে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছে।’
আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরে দলটির সভাপতি আরও বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগকে শেষ করবার জন্য আইয়ুব খান চেষ্টা করেছে, ইয়াহিয়া খান চেষ্টা করেছে, জিয়াউর রহমান চেষ্টা করেছে, এরশাদ চেষ্টা করেছে, খালেদা জিয়াও চেষ্টা করেছে; কিন্তু আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলার মাটিতে জনগণের সঙ্গে এমনভাবে প্রোথিত যে এটাকে কখনও কেউ শেষ করতে পারেনি। বরং আজ এটা প্রমাণ হয়েছে যে- যে রাজনৈতিক দল জনগণের কথা বলে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে গড়ে তোলে, সেই দলই হচ্ছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে যে দল সৃষ্টি হয়, তাদের গোড়ায় কোনও মাটি থাকে না। ক্ষমতা ছাড়া তাদের কোনও অস্তিত্বই থাকে না।’
এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল শুরু। সংবিধানকে লঙ্ঘন করে, হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা শুরু হয়েছিল। ১৯টা ক্যু হয়েছিল। আমাদের সামরিক বাহিনীর হাজার হাজার অফিসারকে মেরে ফেলে। হাজার হাজার সৈনিককে হত্যা করে। প্রতিরাতে ছিল কারফিউ। মানুষের স্বাধীনভাবে চলার পথ বন্ধ ছিল। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। ঋণখেলাপি, দুর্নীতি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়। একটা পর্যায়ে কতগুলি দল করার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, কথা বলার সুযোগ ছিল না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। মার্শাল ল অর্ডিনেন্স দিয়ে আমাদের সংবিধানকে খুঁচে খুঁচে ক্ষতবিক্ষত করা হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেয়। অনেকে গণতন্ত্র রক্ষার নামে এদের সঙ্গে হাতও মেলায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘২১ বছর আওয়ামী লীগকে সরকারে আসতে দেওয়া হয়নি। যারা এসময় ক্ষমতায় ছিল, গণতন্ত্রের কথা বললেও দেশের মানুষ কী পেয়েছিল, দেশের কী উন্নতি হয়েছে, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কী উন্নতি করেছে? ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হতো। এমনকি যে সেনা বাহিনীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে এরা ক্ষমতা দখল করেছে, সেই সেনা বাহিনী, নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনীরই বা কী উন্নতি করেছে? কিছুই করেনি। এদেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাসস্থান কোনোদিকে তাদের নজর ছিল না। তাদের নজর ছিল নিজেরা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ভোগ করবে, অর্থশালী, সম্পদশালী হবে, আর একটা এলিট গ্রুপ সৃষ্টি করা, যারা তাদের খালি বাহবা দেবে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি। তাহলে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি তারা আনবে কেন? জাতি ভিখারি হিসেবে থাকুক সেটাই তারা চেয়েছে।’
মহাকাশ থেকে সমুদ্রের তলদেশ জয় করার কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এই দশ বছরে বাংলোদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। আজকে আমরা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে মহাকাশ জয় করেছি, সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান করেছি, আমাদের স্থলসীমনা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের নেভির সাবমেরিনও আছে। অর্থাৎ মহাকাশ থেকে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত আমাদের বিচরণ।’ আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিরুল আলম মিলন, এস এম কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান।
এ সংক্রান্ত আরও খবর: আমাদের অর্থ দিয়ে তারা মরুভূমিতে ফুল ফুটিয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী