সংসদ ভবনের পাশে ফের চালু হচ্ছে তালুকদার ফিলিং স্টেশন

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের বর্তমান অবস্থা

জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে আবারও চালু হচ্ছে তালুকদার ফিলিং স্টেশন। ৯ বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া এই ফিলিং স্টেশনটি খুলে দেওয়ার জন্য সংসদ মেম্বার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সরকারের গণপূর্ত বিভাগকেও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়েরও এতে সম্মতি রয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সংসদের মেম্বার্স ক্লাব ও গণপূর্ত অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতীয় সংসদের নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০০৯ সালে এই ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা স্টেশনটির ভেতরে ট্রাফিক পুলিশ তাদের কিছু সরঞ্জামাদি রেখেছে। তারা একটি কক্ষও ব্যবহার করছে।

জানা গেছে, সরকারের কেপিআই-ভুক্ত (কি পয়েন্ট ইনস্টেলেশন) স্থাপনার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ‘সংসদ কমিট’ তালুদকার ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ এলাকার ‘নিরাপত্তার হুমকিস্বরূপ’ এ স্টেশনকে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে সংসদ সচিবালয় থেকে গণপূর্ত অধিদফতরকে চিঠি দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের  ৪ আগস্ট  তালুকদার ফিলিং স্টেশন এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নোটিশ দেয় গণপূর্ত অধিদফতর। ওই বছরের ১৭ আগস্ট ফিলিং স্টেশনের মালিক আমেনা বেগম ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এ কারণে আদালত সরকারের প্রতি রুল জারি করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্ট ডিভিশনের দ্বৈত বেঞ্চ ফিলিং স্টেশন বন্ধে সরকারের নোটিশ বৈধ বলে রায় দেন। একইসঙ্গে আদালত আমেনা বেগমের রিট খারিজ করে দেন। এর দুদিন পর ২৪ জুলাই গভীর রাতে পুলিশের সহায়তায় ফিলিং স্টেশই বন্ধ করে দেয় গণপূর্ত অধিদফতর। মূলত তখন থেকে এটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

জানা গেছে, একাদশ সংসদ গঠনের পর প্রধান হুইপ ও পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরীসহ ক্লাবের সদস্যরা ফিলিং স্টেশনটি আবারও চালুর উদ্যোগ নেন। জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের গাড়ির জ্বালানি সুবিধা এবং মেম্বার্স ক্লাবের আয় বাড়ানোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফিলিং স্টেশনটি ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশন আগে যখন চালু ছিল, তখন জমির মালিক গণপূর্ত ও মেম্বার্স ক্লাব এর আয়ের একটি অংশ পেতো। কিন্তু ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মেম্বার্স ক্লাবের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ ও পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, ‘এখানে পেট্রোল পাম্পটি না থাকার কারণে সংসদ সচিবালয়সহ কয়েকশ’ এমপির গাড়ির জ্বালানি অনেক দূর থেকে আনতে হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীর বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন উঠে গেছে। ফলে এই ফিলিং স্টেশনটি চালু হলে সবারই উপকার হবে। আমরা এমপিরা উপকৃত হবো। এজন্য আমরা এটি চালু করার চিন্তাভাবনা করছি। তবে, বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি মামলা ছিল, সেটা কী অবস্থায় আছে তা দেখতে হবে।’

পুনরায় চালু হচ্ছে তালুকদার ফিলিং স্টেশন

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এটা তো জাতীয় সংসদ বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন উনারা আবারও খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদেরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কিনা সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে, আমরা মৌখিকভাবে অবহিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তালুকদার ফিলিং স্টেশনটির জায়গা গণপূর্ত অধিদফতরের। কাজেই ওই জায়গা যদি আবারও ফিলিং স্টেশনের জন্য দেওয়া হয়, তাহলে কোন ক্রাইটেরিয়ায় দেওয়া হবে, আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফিলিং স্টেশনটির প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে চিফ হুইপ সাহেব এটা চালু চেষ্টা করছেন। সম্ভব হলে চালু হতে পারে।’