রাত ঠিক সাতটা ৫৯ মিনিট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের চারপাশ দিয়ে ভেসে এলো বাচিকশিল্পী আসাদুজ্জামান নূরের ভরাট কণ্ঠ। প্রায় এক মিনিটে তিনি অভিবাদন জানালেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে। কৃতজ্ঞতা জানালেন স্বাধীন স্বদেশভূমির জন্য। এরপর কিছুক্ষণের নীরবতা। ঘড়ির কাঁটা স্পর্শ করলো আটটার ঘরে।
স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ারের চারপাশ থেকে শুরু হলো আলোর রোশনাই। কালো আকাশ যখন আলোকিত, তখন চারপাশে উপস্থিত জনতার হর্ষধ্বনি। ছয় মিনিট দশ সেকেন্ডের আতশবাজির এ আয়োজনের পুরোটা সময় আবহে ভেসে বেড়িয়েছে তিনটি গান; ‘শোনো একটি মুজিবুরের কণ্ঠ’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ৮টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামে লেজার শো ও আতশবাজী প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
মুজিববর্ষের সূচনালগ্নে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাল-সবুজ-নীল-হলুদ; নানা রঙের বাহারে ছেয়ে যায় আকাশ! আঁধার কেটে জ্বলে ওঠে আলোর রোশনাই।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ আতশবাজি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।
স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে আতশবাজির উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আতশবাজি শেষে তিনি বলেন, অসাধারণ অনুভূতি। জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ আয়োজন দেখতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের।
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান৷ যে উদ্যানে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এখানে আবেগঘন বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। সেজন্যই উদ্যানের চারপাশ বর্ণিল আলোকসজ্জার সজ্জিত করা হয়। সে সঙ্গে উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাশের ঘাসে ‘মুজিব শতবর্ষ’ ও ‘মুজিব হান্ড্রেড ইয়ারস’ লেখা আলোকসজ্জার সামনে ছবি তুলতেও দেখা যায় অনেককে।
বি তুলেছেন সাজ্জাদ হোসেন