বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তাঁর সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্দেশ অনুসারেই চলবে। ‘দলই হবে সব কর্তৃত্বের অধিকারী’, ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির এক সভায় তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু দলীয় কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে বলেন এবং দেশের পুনর্নির্মাণের কাজ প্রয়োজন হলে গ্রামে গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও তিনি তাদের নির্দেশ দেন। বাসসের বরাত দিয়ে ১৮ এপ্রিল দৈনিক বাংলা পত্রিকার প্রধান খবরে বলা হয়— বঙ্গবন্ধু দলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয়ে সেদিন আলোচনা করেন।
সেবাশ্রম সংঘের অন্যতম কর্মী স্বামী বিবেকানন্দ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ করেন। ভারত সেবাশ্রম সংঘ বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও ঢাকা প্রভৃতি জেলায় সেবাশ্রম সংঘের কর্মীরা ১৪টি সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরিও সেবাশ্রমের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।
কমনওয়েলথে বাংলাদেশ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হয়েছে। কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল আর্নল্ড স্মিথ বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কথা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশকে ৩২তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বাগত জানান বলে বাসস খবর পরিবেশন করে। বাংলাদেশকে কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে জেনারেল স্মিথ ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ তাকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, ‘বাংলাদেশকে সদস্যপদ দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের বাস্তবতাকে মেনে নিলো।’
পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিরা কেমন দুঃসহ যাতনা ও দুর্ভোগের মধ্যে কাটাচ্ছেন, তার করুণ কাহিনী বাংলাদেশে রোজ এসে পৌঁছাচ্ছিল। এদিকে বাংলাদেশ সরকারও প্রতিমুহূর্তে তাদের ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনা করে। যারা আটকে পড়েছিলেন তাদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত বাঙালি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থা আরও করুণ ছিল। পাকিস্তানে আটকে পড়া একজন বাঙালি কর্মচারীর চিঠি ঢাকায় এসে পৌঁছালে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
লন্ডন হয়ে চিঠিটি ঢাকায় এসেছিল। চিঠি লেখক হাসান নৌবাহিনীর একজন অফিসার ছিলেন। চিঠির বক্তব্য যাতে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তার জন্য তিনি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নৌবাহিনীর ৯৭০ জন সদস্যকে পরিবারবিহীন অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। এখানে মাত্র একবেলা খাবার দেয়। আমাদের মধ্যে ৪০ জন ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই দুজন মারা গেছেন।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের অনেক সহযোগীকে কোহাট কেল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
সবাই অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘যাদের ছেলেমেয়ে রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি হবে যদি অবিলম্বে রেডক্রসের বিদেশিদের তত্ত্বাবধানে রাখা সম্ভব না হয়। সেক্ষেত্রে মৃত্যু অনিবার্য। কিছুদিন আগে বাঙালি অধ্যুষিত ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল ওরা। আজ সে কলোনির অধিবাসীরা সর্বস্বান্ত।’ নৌবাহিনীর দুজন অফিসার ও একজন সদস্য তখনও করাচির জেলে আটক বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।