দ্রব্যমূল্যের ষড়যন্ত্র ঠেকাতে সরকারের ন্যায্যমূল্যের দোকান

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১৭ মে’র ঘটনা।)

দ্রব্যমূল্য নিয়ে মজুতদারদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় জুন থেকে নায্যমূল্যের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেয় বঙ্গবন্ধু সরকার। ১৯৭২ সালের ১৮ মে পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। বলা হয়, আগামী মাস থেকে চার হাজারেরও বেশি ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলে ২০ কোটি টাকা প্রাথমিক মূলধন নিয়ে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করপোরেশন ব্যবসা শুরু করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী ঢাকায় একথা ঘোষণা করেন। এই দিনে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী এম আর সিদ্দিকী বলেন, 'এসব দোকানে এগারটি ভোগ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হবে। এসবের মধ্যে রয়েছে- চাল, গম, খাবার তেল, কেরোসিন, কাপড়, কাপড় কাচা সাবান, চিনি, সিগারেট ও শিশু খাদ্য।'

মন্ত্রী বলেন, 'সংশোধিত ও বিধিবদ্ধ যাই হোক না কেন রেশন কার্ডে জনসাধারণকে এসব দ্রব্য সরবরাহ করা হবে।'

এম আর সিদ্দিকী বলেন, 'সরকার ইতিমধ্যে ভোগ্য পণ্য সরবরাহ করপোরেশন গঠন করেছে। এসব ন্যায্যমূল্যের দোকান পরিচালনার দায়িত্বভার করপোরেশনের ওপর অর্পণ করা হবে। পণ্য কিনতে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।'

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'ইউনিয়ন পর্যায়ের ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে ক্রেতাসাধারণ চাল, গম, কাপড় কাচা সাবান পাবেন।'

মজুতদারদের মোকাবিলায় সরকার ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু করে, ১৯৭২ সালের ১৮ মে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাতিনি আরও বলেন, 'সংশোধিত রেশন ব্যবস্থার আওতাধীন সব রেশন দোকানে এই স্কিম পরিচালনা করা হবে। ইউনিয়ন রিলিফ কমিটিতে এসব ন্যায্য মূল্যের দোকানের প্রকৃত কার্যক্রম তদারক করতে বলা হবে। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে একমত হন যে, ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করপোরেশনের পক্ষে পল্লি এলাকার জনসাধারণের জন্য এগারটি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলে তাতে অবস্থা পাল্টে যাবে।' নয়া করপোরেশনকে এক বিরাট দায়িত্ব সম্পন্ন করতে হবে বলেও মন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন।

এদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক আবার শুরু হয় ১৭ মে সন্ধ্যা ৬টায়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক অধিক রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এর আগের দিন মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রায় ৬ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। পরিষদসহ আবারও ১৮ মে বসবে বলে ঘোষণাও দেওয়া হয়। জানা গেছে, সে সময় দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভায় কিছু সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

গণমাধ্যমের প্রতি তথ্যমন্ত্রী

সঠিক তথ্য পরিবেশন ও সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন যে, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে পঙ্গু করার জন্য কিছু লোক অত্যন্ত সচেতনভাবে কাজ করে যাচ্ছে।' সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মুখে হাসি ফোটাতে নিজস্ব ভূমিকা পালনের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, 'জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয় সেদিকে সাংবাদিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে। দৈনিক সংবাদ পত্রিকার ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।