পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যা বললেন ২৮ বাঙালি
পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা ২৮ বাঙালি ঢাকায় এসে পৌঁছেন। পাকিস্তানে আটক সকল বাঙালিরা বর্তমানে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্য দিয়ে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে বলে তারা জানায়। রেডিও পাকিস্তানের অনুবাদক মফিজুল ইসলাম ঢাকা পৌঁছে জানান, কয়েকজন ছাড়া সব বাঙালিরা হয় চাকরি নেই, নইলে বেতন নেই। এ কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয় মধ্যে থাকা শত শত বাঙালি পরিবারকে তাদের নিজস্ব আসবাবপত্র বিক্রি করে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
পালিয়ে আসা ২৮ জন বাঙালি করাচি থেকে নৌকা যোগে ৫ দিনে ভারতে প্রবেশের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বাংলাদেশে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে। ভারত থেকে যশোর হয়ে ট্রাকযোগে তারা ঢাকা পৌঁছান তারা।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ভারত পূর্ণ সহযোগিতা দেবে
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে ভারত প্রস্তুত রয়েছে বলে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জানান। ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেন তিনি। নয়া দিল্লিতে তিনি তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সফরের সফলতায় অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্যের ব্যাপারে ভারতের তরফ থেকে ‘কিন্তুর’ কোনও প্রশ্নই নেই। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং রাজনৈতিক দিক থেকে আত্মনির্ভরশীল হওয়াই এই সরকারের উদ্দেশ্য। অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কৃচ্ছ সাধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর অর্থমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
পরীক্ষা করে বৈদেশিক সাহায্য নেওয়া হবে উল্লেখ করে তাজউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য তার সরকার বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করতে পারে তবে পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য সাহায্য গ্রহণের সময় বাংলাদেশ মুক্তি আন্দোলনকালে বৈদেশিক দেশগুলো কী ভূমিকায় নিয়েছিল সরকার তাও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখা হবে। ভারত থেকে ফেরার পথে দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি এসব কথা বলেন।