খাদ্য ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর উদ্বেগ

ফিরে দেখা ১৯৭২(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড এবং তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২৩ আগস্টের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেনেভা থেকে টেলিফোনে ঢাকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদেরে সঙ্গে কথা বলার সময় দেশের খাদ্য, বন্যা পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের জনগণের অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সময় আবারও দেশে ফেরার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। যদিও তার শারীরিক অবস্থা এখনও ভাল না বলে চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিচ্ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৩ আগস্ট কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন। তার তলপেটের যে জায়গাটিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সেই একই স্থানে ব্যাথা নিয়ে তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নুরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কিছু দিন পূর্ণ বিশ্রামগ্রহণ করতে হবে। অস্ত্রোপচারের কারণে এখনও তিনি কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন। এই অস্বস্তি অস্বাভাবিক নয়। স্বাভাবিক চলাফেরা করার জন্য তিনি এখনও খুবই দুর্বল।

রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন অনিশ্চিত
১৯৭২ সালের ২৮ আগস্ট জেনেভায় পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল তা পিছিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এক খবরে উল্লেখ করা হয় যে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুকে পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। পূর্ণ বিশ্রামে যাতে কোনও রকম ব্যাঘাত না ঘটে সেই জন্য হয়তো জেনেভায় পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবিত সম্মেলন সাময়িকভাবে বিলম্বিত হতে পারে। বাংলাদেশের জাতিসংঘের ত্রাণ সাহায্য দফতরের প্রধান ভিক্টর উমব্রিস্ট ও তার পূর্ববর্তী টনি হেগেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে সাক্ষাৎ করেন। জেনেভায় জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দফতরের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পুর্নেন্দু ব্যানার্জীরও সাক্ষাত করার কথা ছিল।

২৪ আগস্ট, দৈনিক বাংলাচীন বাগড়া দিয়েই চলেছে
সৈন্য প্রত্যাহার ও যুদ্ধবন্দীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পূর্ণ বাস্তবায়ন সাপেক্ষে বিশ্ব সংস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন স্থগিতের প্রস্তাব করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনার জন্য চীন একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। সদস্য অন্তর্ভুক্তি কমিটির সভায় এই একই নীতি গ্রহণ করে তারা। তবে এই ব্যাপারে সদস্য দেশের মনোভাব যাচাইয়ের জন্য প্রেসিডেন্টের ভোট গ্রহণে কিন্তু চীন অংশগ্রহণ করেনি। ভারত যুগোস্লাভিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়ন অবিলম্বে বাংলাদেশের জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তির একটি বাস্তব ভিত্তিক প্রস্তাব কমিটিতে উত্থাপন করে। সম্ভবত এই ধরনের একটি প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। পরিষদের সদস্য কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত করেন। রিপোর্টটি বিবেচনার জন্য ওই সপ্তার শেষের দিকে পরিষদের বৈঠকে বসতে পারে। এডিএন পরিবেশিত মস্কোর খবরে বলা হয় বাংলাদেশের সদস্যপদ এর আলোচনায় চীনের কূটনৈতিক নেতিবাচক মনোভাবে বিশ্ববাসীর মনে উদ্বেগের সৃষ্টি হবে। এদিকে লন্ডন থেকে খবরে বলা হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মিয়া দৌলতানা ব্রিটিশ পররাষ্ট্র অফিসে তার দেশের আপত্তির কথা অবহিত করেছে।

১৮ আগস্টের ছবি ২৪ আগস্টের ইত্তেফাকে প্রকাশিতসংসার চালাতে হিমশিম
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী বেগম সুফিয়া কামাল ও সম্পাদিকা মালেকা বেগম বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সম্পাদিকা আইভি রহমান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা সাজেদা চৌধুরী এক যুক্ত বিবৃতিতে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণত ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রতিদিনি হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাল তেল ওষুধ শিশুখাদ্য ও কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। তারা অনতি বিলম্বে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ন্যায্যমূল্যের দোকান খুলে রেশন কার্ডের মাধ্যমে জিনিসপত্র বিক্রি এবং যানবাহন সমস্যার সমাধানে বাস আনয়নের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান। বিবৃতিতে তারা সকল দুষ্কৃতিকারী, মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য মহিলা সমাজের নিকট আহ্বান জানান।

dainik banglaদেশের প্রতি বৈরী ভাবাপন্নদের হুঁশিয়ারি
বাংলাদেশের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন ব্যক্তিরা যাতে তাদের স্থাবর সম্পত্তি নানা কৌশলে বিক্রি করে সেই টাকা অদৃশ্য ও অবৈধভাবে পাচার করতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সরকার এক অর্ডিন্যান্স জারির কথা সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি তিন বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমি ছাড়া অন্য কোনও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইলে তাকে এই ব্যাপারে সরকার নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সকল সম্প্রদায়, শ্রেণির, ব্যক্তির জন্য এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে। অস্থায়ীভাবে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে বলে সরকার বিবেচনা করছে। ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।