বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গণভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক

দৈনিক বাংলা

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ৭ অক্টোবরের ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রকৃত তাঁতিকে সুতা সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে কটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ক্ষুদ্র শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সমবায় সমিতির  রেজিস্ট্রারকে নিয়ে অবিলম্বে একটি বিশেষ সেল গঠনের নির্দেশ দেন। প্রকৃত তাঁতিদের সুতা সরবরাহের ব্যাপারে গণভবনে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু এই নির্দেশ প্রদান করেন। সুতা সরবরাহের ব্যাপারে যে সংকট বর্তমানে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে, এই বিষয়ের ওপর বিশেষ সেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। প্রকৃত তাঁতিদের কাছে নিয়মিত সুতা সরবরাহের ব্যাপারে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, তা যথাসম্ভব দূরীকরণের জন্যও বঙ্গবন্ধু নির্দেশ দেন। এই সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শিল্প দফতরের সেক্রেটারি, বিসিক-এর চেয়ারম্যান, সমবায় দফতরের সেক্রেটারি ও রেজিস্ট্রার এবং কটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান।

জাতীয়করণ করা শিল্পগুলোর সংকট দূর করতে হবে

গণভবনে শিল্প ডিভিশনের সেক্টর করপোরেশনের অপর এক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয়করণকৃত শিল্প সংস্থাগুলোর বর্তমান সংকট অনতিবিলম্বে দূর করার জন্য নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদের বিভিন্ন দফতরের মধ্যে এ সংক্রান্ত  যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেসব বিষয় জাতীয়করণকৃত শিল্প ডিভিশনের কাছে পাঠানো ও সেখানেই এর সমাধান উদ্ভাবনের ব্যবস্থা করার জন্য বঙ্গবন্ধু পরামর্শ দেন। সম্মেলনে সেক্টর করপোরেশনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ দেন যে, সমস্যার জট ছাড়িয়ে কলকারখানার উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে।

দৈনিক উত্তেফাক খসড়া শাসনতন্ত্রের রূপরেখা

দেশ প্রথম একটি শাসনতন্ত্র পেতে যাচ্ছে। এ সময়টাতে প্রতিটি সংবাদপত্র তাদের সূত্রের বরাত দিয়ে সম্ভাব্য কোন বিষয়গুলো খসড়া শাসনতন্ত্রে রয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করে প্রতিবেদন করছিল। দৈনিক ইত্তেফাক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে ওয়াকিবহাল মহলের বরাত দিয়ে বলা হয় যে, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির খসড়া শাসনতন্ত্র প্রণয়ন শেষ করেছে। শাসনতন্ত্রে বাংলাদেশ পার্লামেন্টে ৩১৪ জন সদস্য থাকবে বলে নির্ধারিত হয়েছে। এরমধ্যে ৩০০ সদস্য প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনি এলাকা হতে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন এবং ১৪টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রার্থীদের সর্বনিম্ন বয়স নির্ধারণ করা হয় ২৫ বছর। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ দালাল আদেশ বলে শাস্তিপ্রাপ্ত কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। কোনও নির্বাচিত সদস্য পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করলে বা একাদিক্রমে ৯০ দিন যাবৎ পার্লামেন্টের অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকলে, বা সংসদ বাতিল হয়ে গেলে, তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যদের ক্ষেত্রে সদস্যরা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে, বা পদত্যাগ করলে তাদের সদস্যপদ খারিজ হবে।

দৈনিক ইত্তেফাকবাংলাদেশ ইউনেস্কোর সদস্য হতে যাচ্ছে

ইউনেস্কোর সদস্যপদের জন্য বাংলাদেশের আবেদন কার্যকরী বোর্ড সুপারিশ করে। এই বোর্ডের ২৭ সদস্যের মধ্যে ২৪ সদস্য বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। পক্ষে ভোট না দেওয়া তিনটি দেশ হলো—পাকিস্তান, আলজেরিয়া ও লেবানন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার বিষয়টি এবার জেনারেল কনফারেন্সে যাবে। আগামী ১৭ অক্টোবর উক্ত কনফারেন্স বসার দিন নির্দিষ্ট রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাভাবিকভাবে ইউনেস্কোর সদস্যপদ পাবে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।’ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে বিতর্কে চীনের প্রতিনিধি যে উক্তি করেছেন, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন তার অতীতের নীতি পরিহার করলে বাংলাদেশের জনগণ উপকৃত হবেন  এবং এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত হবে।’