শাসনতন্ত্র জনগণ গ্রহণ করবে, আশা বঙ্গবন্ধুর

2

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১১ অক্টোবরের ঘটনা।)
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দৃঢ় প্রত্যাশা করেছেন শাসনতন্ত্র নিয়ে জনগণ খুশি হবে এবং আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করবে। কেননা বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা যুক্ত করেই খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মন্তব্য করেন। দেশ তখন গণপরিষদ অধিবেশন থেকে একদিন দূরে। সেখানে এই খসড়া শাসনতন্ত্র পেশ করা হবে।


এর আগে এইদিনে বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। আড়াই ঘণ্টা ব্যাপী সভায় ৭২ পৃষ্ঠার শাসনতন্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অচিরেই তাদের কাঙ্ক্ষিত শাসনতন্ত্র পাবেন। তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মাত্র ৯ মাসের মধ্যে এই খসড়া তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনামলে এদেশের জনগণ ২৫ বছর যাবত শাসনতন্ত্র থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিদেশি শাসকরা দেশবাসীকে শাসনতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এসেছে। কাজেই আজ  নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া শাসনতন্ত্র বাংলাদেশের জনগণ সানন্দে গ্রহণ করবেন।

1

অ-সদস্যরাও সংসদীয় কমিটির সভায় যুক্ত হবেন

সাংগঠনিক কমিটির সভা শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, সাংগঠনিক কমিটির সভায় সদস্যদের খসড়া শাসনতন্ত্র কপি দেওয়া হয় এবং শাসনতন্ত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির আগামী ১৭ অক্টোবর সভায় সাংগঠনিক কমিটির সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কমিটির সদস্য কিন্তু সংসদীয় কমিটির সদস্য নন তারাও সেই সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং সংশোধনী প্রস্তাব আনা হলে তারা আলোচনা করবেন তবে তারাও কোন সংশোধনীর উত্থাপন করতে পারবেন না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জিল্লুর রহমান বলেন আমরা গোটা শাসনতন্ত্র নিয়েই আলোচনা করেছি তবে শাসনতন্ত্রের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত ধারা গুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে।

4

অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আগামী মাসের প্রথম দিকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে এই সময়ে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা আকার ছোট হবে। দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন না করা পর্যন্ত ছোট আকারে অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা শাসনকার্য চালিয়ে যাবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এনা এ খবর প্রকাশ করে। শাসনতন্ত্র গ্রহণের পর বর্তমান মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করবে। কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন আ লীগ দলের সাংগঠনিক কমিটি শাসনতন্ত্র গ্রহণের পরপরই গণপরিষদ ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটির বৈঠকেও এর কথা পুনরুল্লেখ করা হয়। ১২ অক্টোবর গণপরিষদের অধিবেশনে যে শাসনতন্ত্রের খসড়া পেশ করা হবে তা দ্রুত গৃহীত হবে বলে আশা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বারবার তার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজও শুরু করা হয়।

3

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রচেষ্টার স্বাক্ষর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হার্ডিঞ্জ সেতু পুনর্নির্মাণকে জাতীয় পুনর্গঠন কাজে আত্মপ্রত্যয় ও নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর যোগাযোগ মন্ত্রী মনসুর আলী হার্ডিং ব্রিজ নির্মাণের পর উদ্বোধন করার কথা। তিনি বলেন, বিধ্বস্ত হার্ডিঞ্জ সেতু নির্মাণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন দেশ গড়ার সংগ্রামে প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এ দৃষ্টান্ত থেকে অপর সকলেই উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের যেসব রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিক অল্প সময়ের জন্যই দুরূহ কাজ সম্পন্ন করেছেন বঙ্গবন্ধু তাদের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। বিধ্বস্ত হার্ডিং ব্রিজ সেতু নির্মাণ ও উদ্বোধন উপলক্ষে এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, দেশ গড়ার সংগ্রামে প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে আমি দিনটিকে চিহ্নিত করতে চাই। ধ্বংসের ব্যাপকতাকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে আত্মপ্রত্যয় সঙ্গে দ্রুত মেরামত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কোন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।