সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে ২০১০-১১, ২০১১-১২ অর্থবছরের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তিনটি বিভাগের কাজে নির্দেশ উপেক্ষা করে লাইসেন্স নবায়ন ফি, তালিকাভুক্তি ফি, ফরম বিক্রি, টেন্ডার শিডিউল বিক্রি বাবদ আদায়কৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না করে অনিয়মিতভাবে বেসরকারি ব্যাংকে জমা রাখায় সরকার ৯ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৯ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, এ অডিট আপত্তি নিয়ে প্রধান হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় বলেছে, বেসরকারি ব্যাংকে জমা হওয়া টাকা থেকে যে সুদ হয়েছে সেই টাকাও সরকারি কোষাগারে রাখতে হবে।
এছাড়া নির্মাণ কাজ সম্পাদনে ব্যর্থ ঠিকাদারের কার্যাদেশ জরিমানার ভিত্তিতে বাতিল করা সত্ত্বেও জরিমানার অর্থ আদায় না করায় সরকারের তিন কোটি ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৩ টাকা আর্থিক ক্ষতির অর্থ আদায় করে দুই মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া ওই দুই অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনিয়মিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড স্কেল প্রদান করায় এবং অনিয়মিতভাবে অস্থায়ী রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের আগেই প্রকল্পের কর্মচারিদের চাকরি বিরতিকালের বেতন ভাতা বাবদ ছয় কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮০ টাকা পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অডিট আপত্তি পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ কাজে ৩৩ শতাংশ রড কম ব্যবহার করা সত্ত্বেও মেজারমেন্ট নিয়ে বিল পরিশোধে সরকারের দুই কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৫ টাকা আর্থিক ক্ষতির অর্থ দুই মাসে আদায় করতে এবং দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুস শহীদ, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, মনজুর হোসেন, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এবং মো. জাহিদুর রহমান অংশ নেন।