পাট নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি

দৈনিক বাংলা, ১৫ নভেম্বর ১৯৭২(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১৪ নভেম্বরের ঘটনা।)

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর থেকে তিন মাস সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের পাট ভারতে রফতানি করবে। ১৯৭২ সালের এইদিনে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভাতের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাট রফতানির বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উভয় দেশের মধ্যে লেনদেনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সেদেশের জুট করপোরেশনের প্রতিনিধি বি ঘোষ এবং বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পাট রফতানি করপোরেশনের প্রতিনিধি এম এল রহমান। এতে উল্লেখ করা হয়, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারতে বিভিন্ন মানের পাট রফতানি করবে। ভারতের জুট করপোরেশন ও রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য করপোরেশন বাংলাদেশ থেকে পাট নিয়ে যেতে তাদের নিজস্ব নৌযান ও জাহাজ ব্যবহার করবে।

দৈনিক বাংলা, ১৫ নভেম্বর ১৯৭২শহরের বস্তি এলাকায় গুটিবসন্ত

ব্যাপকহারে গুটিবসন্ত শহরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দৈনিক বাংলার খবরে বলা হয়, বিশেষ করে বস্তি এলাকায় রেগীর সংখ্যা বেশি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ১০। এর মধ্যে ৬ জন শিশু। বেসরকারি সূত্রে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরোও মৃত্যুর খবর আসছে। চিকিৎসক মহলের মতে, দেরি না করে রোগ প্রতিরোধের দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, নতুবা এই ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি শহরে মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, সেখানে প্রতিটি নারী-পুরুষ-শিশুকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনবোধে এলাকায় বিশেষ ঘেরাও করে হলেও এই ব্যবস্থার সুপারিশ করেছেন চিকিৎসক মহল।

বাংলাদেশ অবজারভার, ১৫ নভেম্বর ১৯৭২৮০ জন বাঙালি দেশে ফিরেছেন

তাবলীগ করার উদ্দেশ্যে হানাদার আমলে পাকিস্তানে গমনকারীদের ৮০ জনের প্রথম দলটি ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তারা আইসিআরসির একটি বিমানে এখানে আসে। বাসসের খবরে বলা হয়, ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার এদের দ্বিতীয় দল ঢাকায় আসবে। বাংলাদেশে রেডক্রস সমিতির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান। এদিকে, গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সচিবালয়ে যান।  

জনগণ ঠিক করবে তারা মুজিববাদ চায় কিনা

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জনসাধারণ সিদ্ধান্ত নেবে, তারা দেশে মুজিববাদ ও কৃষক শ্রমিক রাজ কায়েম করতে চায় কিনা। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রমনা থানা ইউনিটের সম্মেলনে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একনিষ্ঠ কর্মী গঠন করতে হবে।’ তিনি ছাত্রদের প্রতি চরিত্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তা না- হলে জনসাধারণ আর আগের মতো তাদের ডাকে সাড়া দেবে না।’

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৫ নভেম্বর ১৯৭২পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো সাহায্য দিতে আগ্রহী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘তিনি পূর্ব ইউরোপের যেসব রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন, সেই সব রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাহায্য প্রদানের আগ্রহ দেখিয়েছে।’ পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোতে সফর শেষে ১৪ নভেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ঢাকা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ বলেন,       ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সন্ধান পাচ্ছেন।’ তিনি বলেন যে, ‘দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রসগুলো যেভাবে তাদের দেশ পুনর্গঠন করতে সমর্থ হয়েছে, তাদের সেই অভিজ্ঞতা আমাদের অত্যন্ত কাজে লাগবে।’