‘নেতিবাচক প্রচারণায়’ ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করা যায়নি

ভাসানচর যাচ্ছেন রোহিঙ্গারারোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত না করার জন্য জাতিসংঘেরই সংস্থাগুলোকে দায়ী করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর অব্যাহত নেতিবাচক প্রচারণা, অবাস্তব শর্ত, অনড় অবস্থান ও অসহযোগিতার কারণে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া জাতিংঘকে এ পর্যন্ত সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় উপস্থাপিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ও তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের সর্বশেষ অবস্থা’ নিয়ে উপস্থাপিত এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘সরকারের উচ্চতম পর্যায়ের সিদ্ধান্তে গত ৪ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসম্মতির ভিত্তিতে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার স্থানান্তর সম্পন্ন করা হয়। ভাসানচরের পরিবেশ এবং সুযোগসুবিধা দেখে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।ভাসানচর যাচ্ছেন রোহিঙ্গারা

জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ মানবিক সহায়তা প্রদানকারী অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহকে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

এদিকে সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয় মনে করে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা ৩০৬জন রোহিঙ্গার নেতিবাচক প্রচারণার কারণেই ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তরে জাতিসংঘের অনড় অবস্থান দেখাচ্ছে। এজন্য কমিটি গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া ওই ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারে বাবা-মা বা নিকট আত্মীয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে জাতিসংঘের রিজিট অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের এই অবস্থানের মূলে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থা থেকে উদ্ধার করা ৩০৬ জন রোহিঙ্গা। তাদের নেতিবাচক প্রচারণার জন্য জাতিসংঘ এই অবস্থান দেখাচ্ছে। তবে সর্বশেষ এ বিষয়ে জাতিসংঘকে কিছুটা নমনীয় মনে হয়েছে বলে কমিটির সভাপতি মন্তব্য করেন।ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের আবাসন

সংসদীয় কমিটি ওই ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে না রেখে কক্সবাজারে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেছে উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, যারা সেখানে গিয়ে খুশি আছে তাদের রাখতে বলেছি। যারা খুশি নয় তাদের ফিরিয়ে নিতে বলেছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ভাসানচরে যে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে নেওয়া হয়েছে তারা পরিবেশ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে বলেছি। শিগগিরই সেখানে আরও রোহিঙ্গা যাবেন।

বৈঠকের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে কমিটি মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে।

ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, মো. আব্দুল মজিদ খান, নাহিম রাজ্জাক এবং কাজী নাবিল আহমেদ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন- 

ভাসানচরের রোহিঙ্গারা খুশি, নিরুৎসাহিত করছে একটি পক্ষ 

যেভাবে ভাসানচরে পৌঁছালো ৩৯০ রোহিঙ্গা পরিবার (ভিডিও)