বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশিষ্ট নারীনেত্রী আয়শা খানমকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, বিভিন্ন সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে সেগুন বাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে তার মরদেহ নেওয়া হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। পরে নেত্রকোনায় নিয়ে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক করবরস্থানে সমাহিত করা হয়।বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর কমিটি, সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ শাখা ও বেলাবো শাখা শ্রদ্ধা নিবেদন করে সেখানে। পাশাপাশি সংগঠনের কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান।

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে দীপ্ত ফাউন্ডেশনের জাকিয়া কে হাসান, নারী প্রগতি সংঘের শাহনাজ সুমী, সেভ দ্য চিলড্রেনের উম্মে সালমা, নারীমুক্তি সংসদের সাবিকুন্নাহার, নারীপক্ষের শিরিন হক, দলিত নারী ফোরামের মনি রানী দাশ, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এবং হিন্দু, বৌদ্ধ –খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি,  ঐক্য-ন্যাপ,  মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারী সেল এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

এছাড়াও রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়াত এই নারী নেত্রীকে শ্রদ্ধা জানান। সাংসদ অ্যারোমা দত্ত,  রাশেদা কে চৌধুরী, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালমা আলী, মাহফুজা খানম, তপতী সাহা টেলিফোনে শোক জানান।

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আয়শা খানম মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুফিয়া কামালের যে আদর্শকে ধারণ করে সংগঠনকে পরিচালনা করেছেন তা সমুন্নত রেখে কাজ এগিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণ করেন সংগঠনের নেত্রীরা।বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আয়েশা খানমের মরদেহ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে নেত্রকোনায় নিয়ে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক করবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম শনিবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়

আয়শা খানম বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবাধিকার ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। তিনি ২০০২ সাল থেকে ৬৮ টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারিয়েট এর নেতৃত্ব প্রদান করে আসছিলেন।