দেশে একাধিক ব্যক্তির শরীরে করোনার নতুন স্ট্রেইন

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন পাওয়া গেছে একাধিক ব্যক্তির শরীরে। সংখ্যায় ১০ জনেরও বেশি। তারা দেশে আসেন গত জানুয়ারিতে। এই স্ট্রেইনের সঙ্গে ইউকে ভ্যারিয়েন্ট B117-এর মিল পাওয়া গেছে। দেশে জিনোম সিকোয়েন্সকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

আইসিডিডিআরবি’র একদল গবেষকও জিনোম সিকোয়েন্স করে গত ৬ জানুয়ারি এই তথ্য পায়। তাদের গবেষণার তথ্য সম্প্রতি অ্যামেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি জার্নালে প্রকাশ হয়েছে। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআর বলছে- এতে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা নেই। 

জার্নালে প্রকাশিত আইসিডিডিআরবি’র জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য বলেছে- ঢাকায় একজন ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তির নমুনায় এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে করোনার উপসর্গযুক্ত ওই ব্যক্তিসহ আরও ৫ হাজার ২৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ ছিল ৯৯৮টি। ১৯১টি নমুনার ভ্যারিয়েন্ট পরীক্ষার জন্য জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। সিকোয়েন্সের তথ্য থেকে জানা যায়, একটি স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে ইউকে ভ্যারিয়েন্টের মিল রয়েছে।

গবেষকদলের অন্যতম সদস্য আইসিডিডিআরবি’র ভাইরোলোজি ল্যাবের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০২০ সালের শেষের দিকে কিছু নতুন ভ্যারিয়েন্ট বিভিন্ন জায়গা থেকে রিপোর্ট করা হচ্ছিল। এর মধ্যে ইউকে ভ্যারিয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরপর এলো সাউথ আফ্রিকা ও ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্ট। যখন রিপোর্ট করা হচ্ছিল তখন দাবি করা হচ্ছিল যে এটা হয়তো আরও ছড়িয়েছে। কারণ, এটা খুব সহজে ছড়ায়। এখন তা ১০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’

ড. মুস্তাফিজুর জানান, ‘এটাকে আমি বিশাল কোনও পরিবর্তন বলবো না। কারণ, এটা ভাইরাসের খুব স্বাভাবিক আচরণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম উহান থেকে নমুনা পেলাম তার সঙ্গে এখনকার স্ট্রেইনের অনেক ধরনের পার্থক্য আছে। এটা ভাইরাসের প্রাকৃতিক অভ্যাস। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। সেটা আগের স্ট্রেইন হোক আর পরের স্ট্রেইন।’

দেশের আরও কয়েকটি জিনোম সিকোয়েন্সকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই স্ট্রেইন থাকার সম্ভাব্যতা আরও নমুনার মধ্যে আছে। এই মুহূর্তে অনেকেই গ্লোবাল ডাটা ব্যাংকে তাদের গবেষণা ফলাফল জমা দিয়েছেন। এ তালিকায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদও আছে। সম্প্রতি তারা ৮৯টি তথ্য জমা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন বাংলাদেশে জানুয়ারিতে কয়েকজন রোগীর মধ্যে প্রথম ধরা পড়ে। সংখ্যায় তারা ৫-৬ জন।

প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম জানান, আইইডিসিআর গবেষণা করে দেখেছে, এর সঙ্গে বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, এখন যে টিকা দেওয়া হচ্ছে তা করোনার নতুন স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরও করোনার এই নতুন স্ট্রেইন পায় জানুয়ারিতে।

আইইডিসিআর-এরপ্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম দিকেই আমরা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট চিহ্নিত করি। যেহেতু আক্রান্তরা কোয়ারেন্টিনে ছিল, তাদের আমরা আইসোলেশনে রেখেছি, কন্টাক্ট ট্রেসিং করেছি। এখন পর্যন্ত ছড়ানোর কোনও লক্ষণ বাংলাদেশে দেখিনি।’

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সরকারের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইসরি কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘নতুন স্ট্রেইন আসবে এটাই স্বাভাবিক। সব তো খোলা। তবে ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে তা এখনই বলা যাবে না। ট্রান্সমিশন তো আমরা কখনও আটকাতে পারিনি। সংক্রমণ চলমান ছিল।’