মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. আল জায়াত। ১৯৭৩ সালের এই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জায়াত গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের বার্তা পৌঁছে দেন।

ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথাবার্তা বলে পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. জায়াত। এ সময় ড. জায়াত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। পরিস্থিতি ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন তিনি।

বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদান সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি এখানে এসেছি। সব ব্যাপারে আগে সংবাদপত্রকে বলা যায় না। পাকিস্তানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাওয়া হলে ড. জায়াত বলেন, অস্ত্রের ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি লাভবান হয়। এই উপমহাদেশের যে পরিস্থিতি তাতে কারোরই অস্ত্রের প্রয়োজন নেই। দেশের প্রতিটি পয়সা উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা উচিত। অস্ত্র প্রদানের নিন্দা করে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিনা পয়সায় অস্ত্র দিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি সম্পর্কে বাংলাদেশের ভূমিকায় তিনি খুবই সন্তুষ্ট। এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হবার আগেও এখানকার জনগণ আরব জনগণের পক্ষে ছিলেন এবং তাদের পক্ষে সহানুভূতি নিয়ে কাজ করেছেন। পাকিস্তানে আটকদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ যখন শেষ হয়েছে তখন যুদ্ধের ক্ষত উপশম করা যেতে পারে। কাউকে আটক রাখা উচিত নয়।

 

মিসরের জনগণের ইচ্ছা

সেদিন দুপুরে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান আল জায়াত একদিনের সফরে কলকাতা থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন ও মিসেস কামাল হোসেন এবং অর্থ দফতরের পদস্থ কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে না এসে এশিয়া সফরের কথা কল্পনাও করা যায় না। আনোয়ার সাদাত ও মিসরের জনগণের ইচ্ছাতেই তিনি এসেছেন বলেও জানান।

ড. হাসান জায়াত আরও বলেন, বাংলাদেশ সফরে এসে তিনি খুশি। বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে তার কথাবার্তা ফলপ্রসূ হবে, এখানে এসেই তিনি এমন আশা প্রকাশ করেন। বিমানবন্দর থেকে ডা. জায়াত সরাসরি পররাষ্ট্র অফিস ভবনে যান এবং ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেন। নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু সরকারের অভূতপূর্ব বিজয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর কাছে সুহার্তোর বাণী

স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেনারেল সুহার্তো আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এইদিনে বাসসের খবরে বলা হয়, শুভেচ্ছা বাণীতে সুহার্তো বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীরা হুঁশিয়ার

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সমাজবিরোধীদের উৎখাত করা হবে বলে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী ফণীভূষণ মজুমদার। তিনি বলেন, সমাজবিরোধী ব্যক্তিরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় ক্রেতাদের মধ্যে মজুত প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে গত কয়দিন ধরে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে। যারা এই কৃত্রিম সংকট ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে খাদ্যমন্ত্রী তাদের হুঁশিয়ার করে দেন। তিনি বলেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য আছে এবং খাদ্যভাণ্ডারে আরও খাদ্যশস্য মজুত অব্যাহত থাকবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজবিরোধীরা ক্রেতাদের বিব্রত অবস্থায় ফেলেছে। সরকার তাদের উৎখাতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।

তিনি বলেন, সরল মনে খোলাখুলি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের চাল পরিস্থিতি সম্পর্কে যা বলেছেন এই মতলববাজরা সেটাকে সম্বল করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অন্যদের মজুত বাড়াতে প্রেরণা দিচ্ছে।