‘বঙ্গবন্ধু স্কলার’ হবেন ১৩ জন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘বঙ্গবন্ধু স্কলার’ নির্বাচন ও বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ যৌথভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন। স্কলারশিপের জন্য ১৩টি অধিক্ষেত্র থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। বিজ্ঞপ্তির কপি সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক, সব জেলা শিক্ষা অফিসার, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বরাবর পাঠানো হয়েছে। গত ২৪ মার্চ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, যে ১৩টি অধিক্ষেত্র থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ‘বঙ্গবন্ধু স্কলার’ নির্বাচন ও বৃত্তি প্রদান করা হবে, সেসব অধিক্ষেত্র হচ্ছে—১. সামাজিক বিজ্ঞান, ২. কলা ও মানবিক, ৩. ব্যবসায় শিক্ষা, ৪. আইন, ৫. ভৌত বিজ্ঞান, ৬. ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি, ৭. বিজ্ঞান, ৮. জীববিজ্ঞান, ৯. শিক্ষা ও উন্নয়ন, ১০. চিকিৎসা, ১১. চারু ও কারুকলা, ১২. কৃষিবিজ্ঞান ও ১৩. মাদ্রাসা শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরীন আফরোজের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি অধিক্ষেত্র থেকে একজন স্কলার নির্বাচন করে তাকে বৃত্তি দেওয়া হবে। মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ‘বঙ্গবন্ধু স্কলার’ নির্বাচন ও বৃত্তি প্রদান নির্দেশিকায় বর্ণিত শর্ত ও যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিষয়াদি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের ফরম প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তির জন্য স্বীকৃত শিক্ষাবোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির মধ্যে তিনটি প্রথম শ্রেণি বা বিভাগ বা সমমান থাকতে হবে। অথবা এসএসসি বা এইচএসসিতে জিপিএ বা সিজিপিএ ৫.০০ (স্কেল ৫.০০-এর ক্ষেত্রে) এবং স্নাতকে জিপিএ বা সিজিপিএ ৩.৭০ (স্কেল ৪.০০-এর ক্ষেত্রে) থাকতে হবে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তির নিশ্চয়তা পেয়েছেন বা ভর্তি হয়েছেন, এমন শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধু স্কলার’ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র, ও এক্সট্রা কারিক্যুলাম অ্যাচিভমেন্টের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি সংযোজন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূরণ করা আবেদন ফরম এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর (প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, বাড়ি নং ৪৪, সড়ক নং ১২/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯) ডাকযোগে বা সরাসরি পৌঁছাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসরীন আফরোজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে দেশের মেধাবীদের উৎসাহিত করার একটি উদ্যোগও বটে। মনোনীতরা সনদের পাশাপাশি নগদ অর্থ পাবেন। একটি জমজমাট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই স্কলারদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’’