ভারতে ক্রমেই কোভিড পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে আগামী জুন মাসের আগে সেরাম থেকে টিকা আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এমনকি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সময় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে একটি সূত্র জানায়, ‘ভারতে বর্তমানে প্রতিদিন তিন লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। যেখানে প্রকোপ বেশি সেখানে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অক্সিজেন সংকট রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা নাজুক।’
সূত্র জানায়, ‘সেরাম ইনস্টিটিউট প্রতিমাসে ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকা উৎপাদন করছে এবং ভারত বায়োটেক করছে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন। এর বিপরীতে প্রতিদিন টিকা নিচ্ছে প্রায় তিন মিলিয়ন। বর্তমানে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে যারা শুধু তারই টিকা নিতে পারবেন। তবে ১ মে থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবাইকে টিকা দেওয়া হবে।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান যে চাহিদা রয়েছে, ১ মে থেকে তা অনেক বৃদ্ধি পাবে। কারণ, পরিস্থিতি খারাপ দেখে অনেকেই টিকা নেওয়ার জন্য উৎসাহ বোধ করছেন।’ বাজারে আসার প্রথম দিকে টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম ছিল, কিন্তু এখন এই আগ্রহ অনেক বেশি বলে তিনি জানান।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) টিকা বিষয়ে ভারতীয় নোট ভার্বালের বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও দিন-তারিখ উল্লেখ না করে দিল্লি থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে তাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তারা টিকা দিতে পারবে না।’
উল্লেখ্য, ভারতের সেরাম থেকে ৩০ মিলিয়ন ডোজ টিকা ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ চুক্তি করে এবং অগ্রিম অর্থ প্রদান করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে জুন মাসের মধ্যে তিন কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা সেরামের। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র দেড় কোটি ডোজের বিপরীতে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে।
ভারতের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবো। কারণ, ভারতের ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লে আমাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হবে।’
ভারতের নাগরিকরাও এখন ভারতে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব বাংলাদেশি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের অর্থ সংকট হলে এখান থেকে টাকা পাঠানো সম্ভব, অথবা সেখানে বাংলাদেশ মিশন তাদের সাহায্য করতে পারে। এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।’—বলেন ওই কর্মকর্তা।