বিগত দেড় বছর ধরে সারা বিশ্বে সংক্রমিত হয়ে কোভিড-১৯ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন শক্তির রাজনীতিও সামনে চলে এসেছে। করপোরেট খাতের সীমাহীন লোভের সামনে টিকার বন্টন ও যৌথ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক সময় সরকার অসহায়ও বোধ করেছে। একদিকে ধনী দেশগুলো বেশি টিকা মজুত করে রেখেছে, অন্যদিকে অনেক গরিব দেশ একজনকেও টিকা দিতে পারেনি। এ বিষয়টি কাম্য নয় বলে মনে করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মনে করে টিকা নিয়ে রাজনীতি বিশ্বের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’
বাংলা ট্রিবিউনকে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘প্রথম থেকে বাংলাদেশ বলে আসছিল, টিকাকে যেন পাবলিক গুড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, অর্থাৎ এটি নিয়ে কেউ যেন রাজনীতি না করে বা এখান থেকে লাভ করার চিন্তা না করে। আমরা এটিও চেয়েছি যে, এর সঙ্গে জড়িত প্রযুক্তি যেন সবার সঙ্গে শেয়ার করা হয়, অর্থাৎ এর সঙ্গে যে পেটেন্ট এবং অন্যান্য বিষয়াদি জড়িত রয়েছে সেগুলোকে যেন অব্যাহতি দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই রোগকে সারা বিশ্ব থেকে মুক্ত করা। সে জন্য আমাদের কোটি কোটি ডোজের প্রয়োজন হবে। কিন্তু বর্তমানে যে উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে কোটি কোটি ডোজ উৎপাদন করা সম্ভব না। সুতরাং যৌথ উৎপাদন এবং পেটেন্ট অব্যাহতের বিষয়গুলো সামনে চলে আসবে, সেভাবেই আমরা বিষয়টাকে দেখতে চেয়েছিলাম।’
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হচ্ছে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি লেভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাতো আমরা এখন বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি।’
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এটি আমাদের কাছে খুব অদ্ভূত লাগে, যখন দেখি কিছু দেশ প্রয়োজনের চেয়ে কয়েকগুন বেশি টিকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে বা রেখেছে। এর কোনও প্রয়োজন অথবা উপযোগিতা আছে বলে আমরা দেখি না। কারণ টিকার একটি মেয়াদ আছে, কোনটির তিন মাস বা কোনটি ছয় মাস। এরপর এটির কোনও উপকারিতা নেই।’
‘এই কাজটি বিশেষ করে করেছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এবং তারা বিভিন্ন উৎস থেকে অধিক পরিমাণে টিকা সংগ্রহ করে রেখেছে। এর ফলে অন্যান্য মানুষের জন্য টিকার সংখ্যা কমে গেছে।’—বলেন পররাষ্ট্র সচিব।
তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিয়ে কেউ যদি সংকীর্ণতা দেখায়, তখন আমরা কিছুটা হলেও মনে দুঃখ পাই। আমাদের যদি ক্ষমতা থাকতো বা আমরা যদি ভ্যাকসিন উৎপাদন করি, তবে মিনিমাম প্রাইসে বা যদি কোনও মানুষ বা দেশের কেনার সক্ষমতা না থাকে, তবে আমরা তাদের অবশ্যই সাহায্য করার মানসিকতা রাখি।’
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সবসময় অন্য দেশকে সহায়তা করে আসছে এবং এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া। বাংলাদেশ যদি উৎপাদনে যায়, তবে অবশ্যই অন্য দেশকে সহায়তা করবে।