সমন্বিত ত্রাণ কর্মসূচি গ্রহণে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ১০ ডিসেম্বরের ঘটনা।)

তিয়াত্তরের এই সময়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে দেশ। বছরজুড়ে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বছরের শেষ ঘূর্ণিঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্গত এলাকার জনসাধারণের মধ্যে সামগ্রিক ত্রাণ কাজ পরিচালনার জন্য একটি সুসংহত ও সমন্বিত কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতির প্রতি নির্দেশ দেন। ভূমি রাজস্ব মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, সমিতির চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে  দুটি পরিদর্শনকারী দল গঠন করা হয়। তারা সরেজমিন দুর্গত এলাকা সফর করে ঢাকায় ফিরে এসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে রিপোর্ট করেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণকার্য পরিচালনার নির্দেশ দেন।

একদিন পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সমন্বিত কর্মসূচি প্রণয়ন করবে বলে জানায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—দুর্গত মানুষের মধ্যে নগদ অর্থ, জিনিসপত্র, সামগ্রী বিতরণ করা হবে না। মানুষ যাতে নিজেদের স্থায়ীভাবে নিজ নিজ কর্মজীবনে পুনর্বাসিত করতে সক্ষম হয়, সেজন্য সাহায্য হিসেবে পাওয়ার পাম্প, গরু ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে। জনসাধারণকে তাদের স্বাভাবিক কর্মপ্রবাহের মাধ্যমে তাদের জীবনের পুনর্বাসনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য করা হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরিদর্শক দলের পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে যে দুর্গত এলাকার জনসাধারণ সাময়িক সাহায্য সামগ্রীর পরিবর্তে তারা আবার নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে চায়। জনসাধারণের মনোবল কোথাও ভাঙেনি। বাংলার মানুষ পুনর্বাসনের নতুন সংগ্রাম শুরু করতে চায়। এজন্য তারা কৃষিসামগ্রী সাহায্য হিসেবে চায়। অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সমিতির পক্ষ থেকে সাময়িক সাহায্য হিসেবে চাল-ডাল-তেল-লবণ কাপড়-চোপড় ও  চিনি বিতরণ করা হয়।

দৈনিক ইত্তেফাক, ১১ ডিসেম্বর ১৯৭৩কৃষক লীগ কর্মীদের প্রতি নির্দেশ

বাংলাদেশ কৃষক লীগের সভাপতি বাদল রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ঘূর্ণিদুর্গত এলাকার জনসাধারণের সেবা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সংগঠনের কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানায়। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী একথা জানান। ত্রাণকার্য পরিচালনায় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য নিজ সংগঠনের কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন তিনি।

গণভবনে বিদেশি কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে যোগদানকারী বিদেশি প্রতিনিধিরা এদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। খবরে বলা হয়, সিপিবির সভাপতি মনি সিং ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ তাদের সঙ্গে ছিলেন। যেসব দেশের প্রতিনিধিরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন, সেসব দেশ হলো—সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া।

ডেইলি অবজারভার, ১১ ডিসেম্বর ১৯৭৩এখনও দুইশ জেলে নৌকার খোঁজ নেই

ঘূর্ণিঝড়ের পর দুই শতাধিক জেলে নৌকা নিখোঁজ ছিল। সেগুলোর খোঁজ এখনও মেলেনি। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে যে পরিমাণ ফসল কাটতে বাকি ছিল, তার মধ্যে আনুমানিক ৬০ ভাগ বিনষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ঝড়ে উপকূলীয় এলাকার ৫০টি কাঁচাবাড়ি পুরো বিধ্বস্ত হয়। এদিন রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বলা হয় নিহতের সংখ্যা ৪৮। ক্ষতিগ্রস্ত খুলনার শরণখোলা ও বরগুনা থেকে হতাহতের কোনও খবর সংগ্রহ করা তখনও সম্ভব হয়নি।

কেনেথ কাউন্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট কেনেথ কাউন্ডকে তার দেশের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তার অভিনন্দন বার্তায় বিপুল ভোটে জয়লাভের জন্য প্রেসিডেন্ট কাউন্টার প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘ জীবন ও জাম্বিয়ার জনগণের সমৃদ্ধি কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও অনুরূপ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ ও জাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার বন্ধুত্ব উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে।