যৌনকর্মীদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে তাদের পুনর্বাসনে করণীয় ঠিক করতে একটি সাব-কমিটি গঠন করেছে সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আরমা দত্তকে আহ্বায়ক করে এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সাব কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করবে স্থায়ী কমিটি।
এদিকে যৌনকর্মীদের নিয়ে যেসব বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কাজ করছে তাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে কমিটি।
বৈঠক শেষে সাব কমিটির প্রধান আরোমা দত্ত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি বিষয়টির প্রস্তাব তুলেছিলাম। সকলে আলোচনা করে সাব কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান সাব কমিটি করে স্টাডি করার প্রস্তাব দেন। সাব কমিটির টার্মস অব রেফারেন্স এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার জন্য এখনও কোনও সময় বেঁধে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। যৌনকর্মীরা যাতে সমাজে অন্য দশজন মানুষের মত নাগরিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারেন এটার একটি নীতি দরকার আছে।
এদিকে মন্ত্রণালয় বৈঠকে জানায়, ১৮ বছর বয়সের নীচে এমন যৌনকর্মীদের ধর্মীয় অনুশাসন শেখানো হচ্ছে। এছাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদফতর জানায়, বিদ্যমান শিশু আইন- ২০১৩, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন- ২০০০, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় (ব্যক্তি) পুনর্বাসন আইন- ২০১১ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান মোতাবেক বিভিন্ন যৌনপল্লী ও অন্যান্য স্থান থেকে উদ্ধারের পর তাদের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক ছয়টি বিভাগে অবস্থিত ছয়টি সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করা হয় ।
এ কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানকালীন ধর্মীয় অনুশাসন, নিবিড় কাউন্সেলিং ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানসিক উৎকর্ষ সাধন এবং অবৈধ যৌনাচারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি নিবাসীদের প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন ট্রেড ভিত্তিক (কম্পিউটার, সেলাই ও এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক, ইলেকট্রনিক্স, পোল্ট্রি ও সবজি বাগান ইত্যাদি) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে কর্মসংস্থান, বিয়ে কিংবা প্রকৃত অভিভাবক, নিকটাত্মীয় অথবা অন্য কোনও বৈধ অভিভাবকের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, মোট ছয়টি কেন্দ্রের অনুমোদিত আসন সংখ্যা ৬০০। বর্তমানে ছয়টি কেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রে নিবাসীর সংখ্যা ১৩৮ জন। শুরু থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মোট এক হাজার ৬২১ জন নিবাসী ভর্তি হয়েছে । সর্বমোট এক হাজার ৪৮৩ জন নিবাসীকে বিভিন্ন মাধ্যমে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাগুফতা ইয়াসমিন, নাসরিন জাহান রত্না, বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন এবং আরমা দত্ত অংশ নেন।