মার্কিন প্রতিবেদন নিয়ে কড়া সমালোচনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টের সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তার দাবি, দেশের কোথাও কথা বলার অধিকার হরণ হয়নি।

প্রায় তিন সপ্তাহ বিদেশে অবস্থানের পর ২০ এপ্রিল দেশে ফেরার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন মানবাধিকার রিপোর্ট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমার দেশে কোথাও কথা বলার অধিকার হরণ হয়নি। তোমার দেশে কথা বলার অধিকার হরণ হয়।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র পত্রিকা দেখে তথ্য সংগ্রহ করে এবং এনজিওরা তাদের তথ্য সরবরাহ করে। আরেক দল আছে যারা বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। সেজন্য খারাপ চিত্র দিলে তারা খুব খুশি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক বাঙালি আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে চাকরি করে। যারা প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেন। উনারা খালি খোঁজেন কোথায় আমাদের দোষ। দুনিয়ার সব দেশে অসুবিধা হয়, কিন্তু দেখবেন দোষ পড়ে শুধু বাংলাদেশে।’

 

রেগুলেটেড স্বাধীনতা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের স্বাধীনতা অবশ্যই রেগুলেটেড (নিয়ন্ত্রিত) হতে হবে। কারণ রেগুলেশন না থাকলে নৈরাজ্য হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমাদের মানবাধিকারে অগ্রাধিকার পায় কীভাবে দুই বেলা আমরা মানুষকে খাবার দিতে পারি। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে খাদ্যের অধিকার, বাসস্থানের অধিকার, স্বাস্থ্যের ও শিক্ষার অধিকার।’

“যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সিনেমা হলে আমি গিয়ে ‘বোমা, বোমা’ বলতে পারবো না। যদি বলি তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলবে। তোমার দেশে অনুমতি ছাড়া কোনও আন্দোলন করা সম্ভব নয়। তুমি ঠিক করো যে কোন এলাকায় থাকতে হবে এবং এর বাইরে যাওয়া যাবে না।” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

মার্কিন প্যাট্রিয়ট আইন অনেক কড়া

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট আইনের তুলনায় বেশ নমনীয় বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের আইন-কানুন করি আমাদের নিজেদের বুদ্ধিতে। যদি কোথাও দুর্বলতা থাকে, আমরা সেটি নিয়ে তোমাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আছি। তারপর দেখা যাবে যে কোথায় দুর্বলতা আছে।’

 

র‌্যাবের ওপর আলোচনা

মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে র‌্যাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বললাম তোমাদের রাষ্ট্রদূত বলেছিল, র‌্যাব হচ্ছে বাংলাদেশের এফবিআই এবং তার ওপরই তোমরা নিষেধাজ্ঞা দিলে। তখন তিনি জানালেন যে নিষেধাজ্ঞা তিনি দেননি এবং এটা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।’