প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের অডিট আপত্তি সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ৩৯ হাজার ২৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজার ২১০ টাকা। এরমধ্যে মাত্র ৯০ হাজার ৬৭৫ টাকার অডিট আপত্তি মন্ত্রণালয়ের, বাকি পুরোটাই মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দফতর ও সংস্থার। ১৪ হাজার ৫৮৮টি অডিট আপত্তির মধ্যে মাত্র দুটি রয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। অপরদিকে দফতর ও সংস্থার ১৪ হাজার ৫৮৮টি অডিট আপত্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ৩৯ হাজার ২৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮৫ টাকা।
বুধবার (১১ মে) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
অডিট আপত্তি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৪টি দফতর ও সংস্থার মধ্যে ১৮টির অডিট আপত্তি রয়েছে। ডিজিএফআইসহ ৬টি সংস্থা ও দফতরের কোনও অডিট আপত্তি নেই। অন্যগুলো হলো—সিএও, আইএসএসবি, এমওডিসি, আইএসপিআর ও সাইফার। অডিট আপত্তির সবচেয়ে বেশি সংশ্লেষ অর্থ রয়েছে সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদফতরের (সাভূক্যা)। এই দফতরের এক হাজার ৯৫টি অডিট আপত্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ৩১ হাজার ৫৪২ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
যেসব দফতর ও সংস্থার অডিট আপত্তি রয়েছে তার মধ্যে সেনা সদরের দুই হাজার ১৯২টি অডিট আপত্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৫১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪২ টাকা, নৌ সদরের ৩৪৬টি অডিট আপত্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, বিমান সদরের ৩৬১টি অডিট আপত্তির সংশ্লেষ অর্থের পরিমাণ ৯১ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬ টাকা, ডিজিএমএস’র ৭৩টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৫১ কোটি, ৯১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, কলেজের ২৫৫টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬১০ টাকা, ডিএফডি’র দুই হাজার ৩১৭টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৮১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ৩২ টাকা, ডিএসসিএসসি’র ৩৭টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৬ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, বিএএসবি’র ৭টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ এক হাজার ৭৪৮ কোটি ৮৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা, ই-ইনসি শাখার ২৬টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ২৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, ডিডব্লিউ (আর্মি) শাখার ৫ হাজার ২৫৪টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ দুই হাজার ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, ডিডব্লিউ (নৌ) শাখার এক হাজার ৯৫টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ১৪৫ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ডিডব্লিউ (বিমান) এক হাজার ১৮৬টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৩২৮ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, বিওএফ’র ৯৩টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৪১২ কোটি ৮৩ লাখ ৬১ হাজার, জরিপ অধিফতরের ৪৬টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৩৫ কোটি ৮৭ লাখ ২১ হাজার টাকা, এনডিসি’র ৯৩টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, স্পারসো’র ২৫টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, বিএনসিসি’র ৩টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ২০ লাখ টাকা, এমআইএসটি’র ২৩টি অডিটে সংশ্লেষ অর্থ ২৫ কোটি ৬৪ লাখ দুই হাজার টাকা এবং এএফএসসি’র ২৫ কোটি ১৯ লাখ ৫ হাজার টাকা।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অডিট আপত্তিগুলোর মধ্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন হাজার ১২০টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর সংশ্লেষ অর্থ ছিল ৩২০ কোটি ৫৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বর্তমান অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৯৫৩টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত অর্থ ২০৫ কোটি ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার ২৩০ টাকা।
এদিকে কমিটি তার আগের বৈঠকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার সুপারিশ করে। জবাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন নতুন ডিভিশন/ইউনিট/প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় সিএমএইচ/হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভরশীল জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা সহনীয় রাখার জন্য সিএমএইচ/হাসপাতালগুলোর জনবল বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও চিকিৎসা প্রদানকারী জনবল (চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী) বৃদ্ধি ব্যতিরেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা প্রধিকৃত করলে মানসম্মত চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সভাপতি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হেলাল উদ্দীন, মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মো. মোতাহার হোসেন, নাজমুল হাসান, মো. নাসির উদ্দিন ও মো. মহিববুর রহমান অংশ নেন।