গত ১০ ডিসেম্বর র্যাব ও এর সাবেক ও বর্তমানসহ সাত জন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৬ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সহায়তার জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। পরদিনই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মুহম্মদ ফারুক খান কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তিনি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। জাপান বিষয়টা দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া অন্য দেশের ইনফ্লুয়েন্সের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে আমরা কথা বলছি।’
এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বন্ধু দেশগুলোকে অনুরোধ করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে কিনা কিংবা এটি কতটুকু কার্যকর হবে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কূটনীতিকদের মতামত হচ্ছে—এটি জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় নয়।
এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের অনুরোধ কার্যকর হবে না। যদি কার্যকর হতো তবে এটি গোপন রাখা হতো।’
এ নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে কেন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি সম্ভবত র্যাব ও দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে বলা হয়েছে।
কোনও বিষয়ে তদবিরের জন্য তৃতীয় দেশকে অনুরোধ করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, তবে সেটারও কিছু শর্ত আছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে ওই দেশ দুটো ছাড়াও আরও অনেক দেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং অনেক দেশকে বিভিন্ন অনুরোধও করছে।
র্যাবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দ্বিপক্ষীয় বিষয়। এর সমাধান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করতে হবে।
এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এক বিশেষজ্ঞ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের অনুরোধের বিষয়টি জনসমক্ষে বলার মতো নয়। এতে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। অন্য যে দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয় তারাও বিব্রত হয়।’
তিনি বলেন, ‘র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য। এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য যে প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাহারের তদবিরের জন্য ভারত বা জাপানকে অনুরোধ করা হয়েছে, এই তথ্য যদি সবাই জানে, তাহলে তা ওই দেশ দুটির জন্যও বিব্রতকর।’
যুক্তরাষ্ট্রকে ভারত বা জাপান অনুরোধ করবে কি করবে না সেটা তাদের ওপর নির্ভর করবে। কিন্তু স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের নাম জড়ানোটা ভালো চোখে দেখার কথা নয় বলেও তিনি জানান।
ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীন ও বেইজিং বিষয়টিকে কীভাবে নেবে সেটাও বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
ইতোমধ্যে ভারত ইঙ্গিতে তাদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছে। ২৮ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
একই দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনও দেশ যদি আমাদের এরকম অনুরোধ জানিয়েও থাকে এবং তার ভিত্তিতে আমরা কোনও পদক্ষেপ নিয়েও থাকি—সেটা বোধহয় আমরা প্রকাশ্যে নাও জানাতে পারি।’