গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার টরন্টোর ৪২৭-এর দুনদাস স্ট্রিট ওয়েস্টে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশির দুজন আরিয়ান আলম ও শাহারিয়ার খানের মরদেহ দেশে আনার পক্রিয়া চলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে আরিয়ানের পরিবার।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিহত আরিয়ান আলমের বাবা এটিএম আলমগীর বাংলা ট্রিবিউনকে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইতোমধ্যে লাশ নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও দাফতরিক কাজ শেষ হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার তাদের লাশ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।’
তিনি আরও বলেন, গোসল শেষে সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টরেন্টোর একটি শহরের আল আবেদীন নামে মসজিদে আরিয়ান আলম ও শাহারিয়ার খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কানাডার বিভিন্ন জায়গায় বসবাসরত বাংলা কমিউনিটি ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা অংশ নেবেন। জানাজা শেষে তাদের মরদেহ নিয়ে বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের মরদেহ পৌঁছাবে বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায়।
নিহত শিক্ষার্থী আরিয়ান আলমের বাবা এটিএম আলমগীর আরও জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নাখালপাড়া খেলাঘর মাঠে আরিয়ানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকার পাশে বাউনিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আরিয়ান আলমের বড় বোন সানজিদা আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ আগামী ৪ দিনের মধ্যে দেশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আরেক বাংলাদেশি অ্যাঞ্জেলা বাড়ৈর মরদেহও দেশে আসতে পারে আগামী শুক্র অথবা শনিবার। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নতুন দেশ’-এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক শওগাত আলী সাগর।
এছাড়া এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় কানাডার স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের একমাত্র ছেলে নিবিড় কুমার। সে এখন শংকামুক্ত বলে জানান কুমার বিশ্বজিৎ।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় আরিয়ান ও তার তিন বন্ধু গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে।