কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্বন নিঃসরণের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়ার পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এক্ষেত্রে কমিটির সুপারিশ হলো— যেসব দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এখানে বিনিয়োগ করবে তাদের নিজ দেশের মানমাত্রা এবং বাংলাদেশের মানমাত্রা বিবেচনায় নিতে হবে।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ এসেছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিবেশ অধিদফতরের সভাকক্ষে সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ অধিদফতর কিসের ভিত্তিতে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিঃসরণ মাত্রা নির্ধারণ করে সে বিষয়টি জানতে চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি।
পরিবেশ অধিদফতর এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে জানায়, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ এবং বিভিন্ন দেশের মানমাত্রার ভিত্তিতে নতুন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিঃসরণ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রকল্পে থেকে দূষণের মাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নতুন যে মহাপরিকল্পনা হচ্ছে সেখানে এ বিষয়ে তেমন কিছু উল্লেখ নেই। বিভিন্ন দেশ যারা এখানে বিনিয়োগ করছে তারা বাড়তি ছাড় চাইছে। তিনি বলেন, তারা এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারা পরিবেশের দিকটা দেখবেন। তাদের সুপারিশ হলো– প্রকল্পে নিঃসরণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী দেশের যে মানমাত্রা সেটা এবং বাংলাদেশের আইন বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় নিতে হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, পরিবেশ দূষণের দায়ে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হবে। বিদ্যমান জরিমানার পরিমাণ সংশোধন করা হবে বলে বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানান।
বিকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিবেশ অধিদফতরের সভাকক্ষে সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ট্যানারি তার ইটিপি বন্ধ রাখলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। কিন্তু ইটিপি বন্ধ করে দূষণের দায়ে তাদের জরিমানা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। তাই তারা জরিমানা দেওয়ার সুযোগটি নেবে এটাই স্বাভাবিক। অপরাধের মাত্রার সঙ্গে জরিমানার পরিমাণের সম্পর্ক থাকতে হবে। জরিমানার বিষয়টি সংশোধন করা হবে। এ ছাড়া কোনও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরিবেশ দূষণের দায়ে সরাসরি মামলা করার সুযোগ দিয়ে আইনের সংশোধন আনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্লক ইট তৈরিতে ভাটা মালিকদের সুযোগ বাড়ানো, ব্লক ইট ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি নির্মাণ কাজে শতভাগ ব্লক ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।