প্রতিদিনই নারী দিবস বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনও কিছু নেই যেটা নারী ছাড়া হয়।’
বুধবার (৮ মার্চ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর ধানমন্ডি নগর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে নারী দিসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘নারী দিবস প্রতিদিনই। পৃথিবীতে এমন কোনও কিছু নেই যেটা নারী ছাড়া হয়। নারীদের জড়তার জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের নারীদেরকে হাত ধরে এগিয়ে দিয়েছেন একজন শেখ হাসিনা। এখন আমাদের কাজটা করে যেতে হবে। ছোটবেলা থেকে আমাদের চারপাশে শক্ত-পোক্ত যে দেয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো ভেঙেচুরে বের হয়ে আসতে হবে। এই যুদ্ধটা আসলেই নারীর জন্য সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। সেটাতে জয়ী হওয়ার পরেও স্কাই ইজ দ্য লিমিট। নারী যে পথে হাঁটবে, সে পথ কিন্তু কুসুমাস্তীর্ণ নয়। সে কারণে এই ডিজিটাল পথেও নারীর বাধা-বিপত্তি অনেক। কিন্তু তাকে ডিজিটাল হতেই হবে। প্রযুক্তি শিখতে হবে। কারণ এটি এমন একটা জায়গা সেখানে নারী-পুরুষ খুব বেশি মেটার করে না।’
বিশ্বটাই প্রযুক্তির উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নারীকে শিখতেই হবে। কারণ এই বিশ্বটাতেও নারীকে নিজের জায়গা করে নিতে হবে। নারী-পুরুষ সকল মানুষের বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঞ্চনাহীন, শোষণহীন একটি বাংলাদেশ তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার প্রতি এই নারী দিবসে শ্রদ্ধা।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অদ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সামাজিক অনুশাসনের বহু কিছু যখন ভেঙে পড়ে, তখন নারী শাসন-স্নেহ সমাজের অগ্রসরতা ও উন্নয়নের পথ দেখায়। সুতরাং নারীর ভূমিকা যে শুধু মাতৃত্বে সেটি নয়। নারীর ভূমিকা আজ নেতৃত্বে, সৃজনশীলতায় ও দক্ষতায় সুপ্রতিষ্ঠিত। আমাদের নারী দিবসের বার্তা হবে সমভাবে ক্ষমতায়ন নয়, বরং নারীর যেন আরও অধিক ক্ষমতায়ন হয়। তাহলে সমাজ আরও বেশি অগ্রসর হবে সেটিই প্রমাণিত। সে কারণে এটি শুধুমাত্র পাওয়ার স্ট্রাকচার দিয়ে দেখার বিষয় নয়। বরং তার যে যোগ্যতার জায়গা সেই যোগ্যতম জায়গাটিতে তিনি যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তেমন সামাজিক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে। আমরা নারী-পুরুষ ভেদাভেদের মধ্য দিয়ে নয় বরং মানুষ হিসেবে সহযাত্রীর পথকে অবারিত করে যেন মুক্ত পৃথিবী, আধুনিক বাংলাদেশ, অগ্রসর সমাজ তৈরি করতে পারি।’
নারী দিবসের এই আয়োজনে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসিমা বানু, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অভিনেত্রী তারিন জাহানসহ বিভিন্ন পেশার নারী নেতারা। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দফতর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
বিকাল ৫টায় শান্তির পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এছাড়া রাতে নারী জাগরণের গান পরিবেশন করে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।