আড়িয়াল বিলে অবৈধ আবাসন প্রকল্প: সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ

আড়িয়াল বিলে গড়ে উঠা অবৈধ আবাসন প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। রবিবার (৩০ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয় আড়িয়াল বিলে অসংখ্য রিয়েল এস্টেট গড়ে ওঠার তথ্য আমরা পেয়েছি। কৃষি জমিতে তারা বালু ভরাট করে অবৈধভাবে এটা করছে। বিষয়টি নিয়ে কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আড়িয়াল বিল হচ্ছে প্রাকৃতিক জলাশয়। সেখানে তো কোনও হাউজিং বা রিয়েল এস্টেট গড়ে উঠতে পারে না। যেসব অভিযোগ এসেছে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ভূমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চিঠি লেখার সুপারিশ করেছি।

সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, তারা পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে সেখানকার একটি ডিজিটাল ম্যাপ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে পুরনো যে ম্যাপ রয়েছে সেটার সঙ্গে বর্তমানে কী পরিবর্তন হয়েছে সেটা দেখতে বলেছেন।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটি আড়িয়াল বিলে অবৈধভাবে গড়ে উঠা আবাসন প্রকল্পের বিস্তাররোধে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং ছাড়পত্র না দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে পরিবেশ দূষণ বন্ধে অগ্রগতি নেই

এদিকে বার বার সুপারিশ করা হলেও সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে পরিবেশ দূষণ বন্ধে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না বলে জানান কমিটির সভাপতি। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে না উল্লেখ তিনি বলেন, নানা অজুহাতে এখানে প্রত্যাশিতভাবে অগ্রগতি নেই। যারা কোর্টের আদেশ মানছে না তাদের তথ্য আমরা দিতে বলেছি।

ট্যানারি শিল্পনগরীতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এমন প্রায় একশ’র মতো প্রতিষ্ঠান এখানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সঙ্গে প্লট লিজ চুক্তি করেনি বলে বৈঠকে জানানো হয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানের কাছে বিসিকের ৩০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সাবের হোসেন বলেন, যাদের লিজ চুক্তি নেই সেই তথ্য আমরা চেয়েছি। এক মাসের মধ্যে এ তালিকা দিতে বলেছি।

সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চামড়া শিল্পনগরীতে বরাদ্দকৃত প্লটের যে সব বরাদ্দপ্রাপ্তরা এখনও লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করেনি তাদের ট্যানারির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়।

সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন অংশ নেন।