কোথাও যাতে ভোক্তাদের হয়রানি না হয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু ব্যবসায়ী রমজান মাসে পণ্য মজুত করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটতে চায়। সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। আমাদের সবসময় লক্ষ রাখতে হবে বাজার পরিস্থিতির দিকে। কোথাও যেন ভোক্তাদের হয়রানি হতে না হয়। আমাদের দেশে পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে।

রবিবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিসিদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে। আমাদের অনেক কিছু বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমাদের উর্বর মাটি, দক্ষ মানুষ ও বিশাল জনগোষ্ঠী আছে। গ্রাম পর্যায়ে মানুষকে একটু প্রশিক্ষণ দিলে তারা ভালো কাজ করতে পারে। উৎপাদন বহুমুখী করা, শুধু কৃষি নয়, এ ছাড়া পশু পালন, মাছের চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, হস্তশিল্পসহ বহু বিষয় আছে, একটু উদ্বুদ্ধ করলে মানুষ উৎপাদন করবে।

স্বাধীনতার পর সরকারি কর্মচারীদের ট্যাক্স দেওয়া মওকুফ করা হয়েছিল, কারণ তখন পূর্ণাঙ্গ বেতন দেওয়া যেতো না। সে রকম আর্থিক অবস্থা ছিল না। কারেন্সি নোট ছিল না, রিজার্ভ ছিল না। সে জন্য তাদের ট্যাক্স সরকার দিয়ে দিতো। পরবর্তী সময়ে সবার সেই সামর্থ্য হয়েছে। এখন সবাই ইনকাম ট্যাক্স দিচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা যতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততটা ইনকাম ট্যাক্স দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে যদি মানুষকে সচেতন করা যায়, উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে সমস্যা একে একে দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়ে দিয়েছি। আমাদের যুব সমাজ দু-চারটা পরীক্ষা দিয়েই চাকরির জন্য ঘুরে বেড়ায়। আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করছি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প করে দিয়েছি। যুবসমাজকে এসব কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, আর্থিকভাবে দেশ কতটুকু সচ্ছল হবে, সেই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি কতটুকু হবে, সেটা বিবেচনা করেই প্রকল্প গ্রহণ। শুধু বড় বড় প্রকল্প আর টাকার অঙ্ক, সেই প্রকল্প আমি গ্রহণ করি না। অনেক সময় যাদের কাছ থেকে ঋণ নিই, তারাও বড় প্রকল্প নিয়ে আসে। কিন্তু আমি সবসময় বিবেচনা করি দেশের জন্য কোনটা প্রয়োজন, তার থেকে মানুষ কতটা উপকৃত হবে, তার রিটার্ন কী আসবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় মন্ত্রণালয় থেকে, কিন্তু জেলা প্রশাসক হিসেবে, কমিশনার হিসেবে জমি দেওয়ার সময় আপনাদের কাছ থেকে নেয়। তাই জমি যদি আপনারা দেবেন, সব যখন আপনারা করবেন, তাহলে নজরদারি করবেন না কেন? কাজেই সব প্রকল্পে নজরদারি করার অধিকার আপনাদের আছে। সেটা আপনারা করবেন।

অতীত ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচন সবচেয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃতপক্ষে যারা নির্বাচনই চায়নি, তাদের লক্ষ্য ছিল দেশে যেন কোনও নির্বাচন না হয়। অনির্বাচিত, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যাতে আবার সৃষ্টি না হয়, যা ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘ ২১ বছর দেশের মানুষ কষ্ট ভোগ করেছে।

স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া পদক্ষেপ স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রথমবার সরকারে এসে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সেই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখেনি। একটা সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকলে উন্নয়নটা টেকসই হয় না, দৃশ্যমান হয় না—সেটাই প্রমাণিত সত্য।