দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি চিঠি থেকে পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন হওয়াকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
অভিযোগের চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া, ২০১৬ সালের অভিযোগের অনুসন্ধান আট বছর পরে শুরু করা এবং ঢালাওভাবে কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন তারা।
তাদের মতে, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটির তদন্ত হবে, এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ঢালাও অভিযোগের ভিত্তিতে কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অনুসন্ধান সারা বিশ্বে একটি ভুল বার্তা দেবে। দুদকের চিঠি নিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা তাদের হতাশার কথা ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুদক থেকে আমরা কোনও চিঠি পাইনি। যদি ধরেও নিই এই চিঠিটি সঠিক এবং পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তারপরও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পৌঁছানোর আগে দুদকের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য দিয়ে মিডিয়ায় চিঠি প্রকাশ হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। এখানে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে হয়।’
সারা বিশ্বে ভুল বার্তা
দুদকের চিঠির বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাদের নাম প্রকাশ হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে রাষ্ট্রদূত ছিলেন বা আছেন। এ ছাড়া অন্যরা বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এর ফলে বিদেশে তাদের কাজ করার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়বে।
অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার হবে, এটি স্বাভাবিক। কিন্তু ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হলে এটি ভুল বার্তা দেবে।’
কূটনীতিকদের দুর্নীতির অভিযোগ ঢালাওভাবে মিডিয়ায় প্রকাশ হলে সেটি তারা যে যে দেশে কাজ করেন, সেখানে তাদের কাজ করার ক্ষেত্র সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তিনি জানান।
দুদকের চিঠি কোথায়
দুর্নীতি দমন কমিশনের চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখনো পৌঁছায়নি। ওই চিঠি সঠিক কি না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। আবার চিঠি সঠিক হলে এবং পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকলে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর আগে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্যসহ মিডিয়ায় প্রকাশ হলো কীভাবে, এ ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি সন্দেহজনক। তবে গোটা বিষয়ে একটি জিনিস পরিষ্কার, সেটি হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।’
সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হবে। কিন্তু ঢালাও অভিযোগ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মানহানি করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অনেকে আইনি ব্যবস্থাও নিতে পারে বলে তিনি জানান।