পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিকে উৎসাহ দিতে নন-লিস্টেড ও লিস্টেড কোম্পানির করপোরেট কর হারের ব্যবধান বাড়িয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাবনায় কর ব্যবধান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে এই ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭.৫ শতাংশ, যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য ২০ শতাংশ কর হারের সুবিধা আগের মতোই থাকছে, তবে সেই সুবিধা পাওয়ার শর্তাবলি শিথিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে কঠিন শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানিকেও ২২.৫ শতাংশ কর দিতে হয়েছে, আর নন-লিস্টেড কোম্পানিগুলোর জন্য কার্যত কর হার ছিল ২৭.৫ শতাংশ। এবার এই ব্যবধান স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে তালিকাভুক্তির প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পুঁজিবাজারে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা— যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।
প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এডিপি ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে সংকোচনমূলক বাজেট।
এর আগে সোমবার (২ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার দফতরে অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন শেষে তাতে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বাজেট ডকুমেন্টস নিয়ে রামপুরার বিটিভি ভবনে যান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ। সেখানে রেকর্ড করা হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনা। যা বিকাল ৩টায় সম্প্রচার শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।