সংসদে পাস হওয়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা কর্পোরেশন আইনের (আইডিআরএ) সংশোধনী নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ কোনও ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে প্রতিষ্ঠান দুটির শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘‘মাত্রই দুইটা আইন এখানে পাস করা হলো। আমরা জানি যে সরকারি দল এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তারা যেভাবে চাইবেন সেভাবেই আইন পাস হবে। এটাই হাউজের বাস্তবতা। কিন্তু বিলের বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বীমা কর্পোরেশন, উভয় আইনের বয়সের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিলের খসড়া দেখলে মনে হয় খুবই সংক্ষিপ্ত পরিবর্তন, কিন্তু এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর।’’
আখতার বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য আগে ৬৫ বছর এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে ৬৭ বছরের বয়সসীমা নির্ধারিত ছিল। সরকার দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগের অজুহাতে এই সীমা তুলে দিচ্ছে।
বিলপাসে সরকারের সমালোচনা করে আখতার বলেন, ‘‘প্রশ্ন হলো- এটি কি কোনও বিশেষ ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে, নাকি কোনও স্থায়ী পলিসির অংশ? যেভাবে ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেভাবে যদি বিশেষ কাউকে বসানোর জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়, তবে তা অর্থমন্ত্রীর ‘দক্ষ ও যোগ্য লোক’ তত্ত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।’’
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার নিজেদের পছন্দের লোককে উপদেষ্টা করার জন্য প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়িয়েছিল, যার খেসারত জাতিকে দীর্ঘকাল দিতে হয়েছে। শেয়ার বাজারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় নিজেদের লোক বসানোর চিন্তায় যদি বয়সের সীমারেখা তুলে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে।
আখতার হোসেন বলেন, ‘‘এগুলো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থ-সম্পদ যদি এখান থেকে লুটপাটের কোনও পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তার জন্য বর্তমান সরকারকেই দায়ি থাকতে হবে। আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়ে রাখলাম। সরকার বলছে সৎ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দেবে, এখন জাতি দেখার অপেক্ষায় আছে সামনের দিনগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে কাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।’’
এ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।









