কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এসময় ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কোনও ব্যক্তি গ্রেফতার হলেই তিনি অপরাধী নাও হতে পারেন। মিথ্যা মামলায়ও অনেকে আটক হতে পারে। সামাজিক কারণেও অনেকে মিথ্যা মামলায় আটক হন। যতক্ষণ আদালত কর্তৃক কাউকে দোষী সাব্যস্ত না হয় এবং শাস্তি দেওয়া না হয়, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যাবে না।

আবাসন সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ কারাগারটি ব্রিটিশ আমলের। এখানে আসামিদের স্থান সংকুলান হয় না। আসামিদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। এ কারাগারের আরেকটি ইউনিট চালু করে স্থান সংকুলান সম্ভব।

কারা অভ্যন্তরে উপাসনালয় ব্যবস্থা থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, কারাগার কেবলই শাস্তির স্থান নয়, এটি সংশোধনাগারও বটে। এখানে কোনও উপাসনালয় নেই। মুসলমানদের জন্যও নেই, হিন্দুদের জন্যও নেই। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে অন্তত একটি কক্ষে মুসলমানদের এবং একটি কক্ষে হিন্দুদের উপাসনালয় ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন। একাজে তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। 

কারাগারে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা চালুর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. খালিদ বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিযুক্ত করে কারাবন্দিদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটানো সম্ভব। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। 

ধর্ম উপদেষ্টা আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা ও  দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইনে সময়সূচি অবহিত করাসহ কারাগারের আধুনিকীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এসময় ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম এবং বেসরকারি কারা পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আন্ত:মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামে বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় মিলিত হন।